(ভিডিও)হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকা পারাস্তুকে যে সাজা দিলেন আদালত

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ৪.,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,সোমবার   ২২ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৮ ১৪৩৩ || ৬ মহররম ১৪৪৮ হিজরি :

হিজাব ছাড়া লাইভ কনসার্টে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করার অপরাধে কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন ইরানের জনপ্রিয় তরুণী সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি। দেশটির আদালত তাকেসহ একটি প্রযোজনা দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে বেত্রাঘাত মারার আদেশ দিয়েছেন।

Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,
    ০১৩১৫২৫১১৪৫

গত ১৮ জুন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইরানের আদালতের নথি অনুযায়ী বলা হয়েছে, কোম প্রদেশের একটি ফৌজদারী আদালত এই সংগীতশিল্পীদের বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুই বছরের জন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং এই সময় যেকোনো ধরনের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অনলাইনে ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কনসার্ট’ আয়োজন এবং তা প্রচারণার মাধ্যমে জনসম্মুখে শালীনতা প্রদর্শন না করার অভিযোগে এই সাজা দেয়া হয়েছে তাদের। তবে এখনো বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সংস্থা এখনো এ রায় প্রকাশ করেনি। কিন্তু অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী এবং নথিগুলো পর্যালোচনাকারী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থা নেয়া শিল্পীদের গ্রেপ্তার এবং আইনি নোটিশ দেয়ার  এ ধরনটি মূলত সাংস্কৃতিক ভিন্নমতকে দমন করার একটি বৃহৎ প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২৯ বছর বয়সী এই তরুণী গায়িকা হিজাব ছাড়া ‘আজ খুনে জাভানানে ভাতান’ (স্বদেশের তরুণদের রক্ত থেকে) শিরোনাম শীর্ষক একটি দেশাত্মবোধক গান সরাসরি পরিবশন করেন, যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর ক’জন সংগীতশিল্পীর সঙ্গে তাকেও কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল এবং পরে ছেড়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি প্রকাশের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা করে।

এ ঘটনায় ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি পরামর্শ কেন্দ্র ‘দাদবান’র একজন মানবাধিকার আইনজীবী মঈন খাজায়েলি বলেন, এই সাজার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ইরানের ফৌজদারি আইনে নারীদের গান গাওয়া, গান পরিবেশন করা এবং গান তৈরি বা প্রচার করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি, বিতরণ বা প্রচারণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

এ আইনজীবী আরও বলেন, শিল্পী, সুশীল সমাজের কর্মী বা অন্য কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে বেত্রাঘাতের শাস্তি কার্যকর করা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ফৌজদারি আইনের বিষয় নয়। এটি নির্যাতন নিষিদ্ধ করা এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক বাধ্যকতার বিষয়ও মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি করে। এ কারণে অসংখ্য মানবাধিকার সংস্থা বেত্রাঘাতকে বৈধ শাস্তি হিসেবে মনে করে না। বরং এটিকে এক ধরনের নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

Advertisement

ইরানি ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি বলেন, প্রকাশ্যে হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার মতো সাধারণ একটি কাজের জন্য গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে বেত্রাঘাতের সাজা দেয়া নির্মম কাজ। ওয়াশিংটনে ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থা নিয়ে যতই আলোচনা হোক না কেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নিপীড়নের মূল রূপটি অপরিবর্তিতই রয়েছে।

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকা পারাস্তুকে যে সাজা দিলেন আদালত