ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,ভোলা প্রতিনিধি, শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ || ফাল্গুন ১৪ ১৪৩২ || ৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :
ভোলায় চুরি হওয়া শিশুটি ঢাকাগামী এমবি দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চ থেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় জড়িত এক নারীকে আটক করা হয়েছে। অবশেষে তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু জিদনী ইসলাম আলিফা ওই গ্রামের আব্দুর রব ও সুমাইয়া দম্পতির তৃতীয় কন্যা সন্তান।
জানা গেছে, তিনমাসের শিশু সন্তানকে বিক্রি করে পরে চুরির নাটক সাজিয়েছেন শিশুটির মা সুমাইয়া। মায়ের কোলই সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়- এমন বিশ্বাসকেও যেন প্রশ্নবিদ্ধ করলো এই শিশু চুরির নাটকীয় ঘটনা। তিনমাস বয়সী শিশু চুরির অভিযোগে এলাকায় যখন কান্না আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে, তখনই তদন্তে বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল সত্যতা। শিশুটিকে কেউ চুরি করেনি, বরং নিজের সন্তানকেই আত্মীয়ের কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন মা। এরপর সাজানো হয় চুরির নাটক।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
প্রথম দিকে পরিবার জানায়, শিশুটির মা সুমাইয়া বেগম স্থানীয় মালেরহাট বাজারের একটি ক্লিনিকে গেলে বোরকা পরিহিত এক নারী তাকে নেশাদ্রব্য দিয়ে অচেতন করে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের আহাজারি আর মায়ের কান্না দেখে অনেকেই সহানুভূতিতে ভেঙে পড়েন।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। কিন্তু তদন্ত যত এগোতে থাকে, ততই সন্দেহের জাল ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিকেলের দিকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চ থেকে ফোন আসে শিশুটির পরিবারের কাছে। হাজেরা বেগম নামের এক নারী জানান, শিশুটির মা সুমাইয়া আক্তার আমেনা বেগম নামের এক নারীর কাছে শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছেন তার এক আত্মীয়র কাছে। সেখানেই শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পথে লঞ্চের যাত্রীরা তাকে আটক করে। পরে চাঁদপুরের কোস্টগার্ড সেখান থেকে ওই নারীসহ শিশুটিকে উদ্ধার করেন। অন্যদিকে, শিশুটির বাবা আব্দুর রব ও মা সুমাইয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই মা সুমাইয়া আক্তার নিজেই শিশুটিকে তার এক আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে চুরির নাটক সাজান।
এ ব্যাপারে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম জানান, শুরুতে চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে এসেছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।



