(ভিডিও)এডিসি সানজিদাদের রক্ষায় মরিয়া প্রভাবশালী চক্র অপকর্মের হোতা পুলিশ কর্তারা এখনও বহাল

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.,বিশেষ প্রতিনিধি ,রোববার   ১৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩ || ২৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি :

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতন হলেও পুলিশে এখনো তাদের দোসররা বহাল তবিয়তে। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা সদর দফতরের বিশেষ মনিটরিং সেল থেকে সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ও নিপীড়নের আদেশ সমন্বয়ের কাজ করেছেন ফ্যাসিবাদের সেসব দোসররা পদায়ন পেয়ে এখনো বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার, এসবি, সিআইডি, পুলিশ স্টাফ কলেজ ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত। আওয়ামী লীগের আমলে বৈষম্যের শিকার পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো বঞ্চিত। পেশাদার বঞ্চিত কর্মকর্তাদের রেখে ছাত্র-জনতার হত্যা-আহত করার সাথে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের পরিবর্তে নতুন নতুন পদে পদায়ন করা হচ্ছে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের ভোটারবিহীন, একতরফা ও মধ্যরাতের নির্বাচনে কাজ করা এবং তৎকালীন সময়ের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের অত্যন্ত আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের রাখা হচ্ছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পদে।

Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,
    ০১৩১৫২৫১১৪৫

অন্যদিকে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যার দুটি মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ডিএমপির আলোচিত সাবেক এডিসি সানজিদা আফরিনসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় অভিযুক্ত সানজিদাসহ দু’জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে ব্যর্থ হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী পন্থী প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সানজিদাসহ অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা এখন বহাল রয়ে গেছেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বারডেম হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে শাহবাগ থানায় আটকে ছাত্রলীগের দুই কেন্দ্রীয় নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নেতাকে ব্যাপক মারধরের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন এই এডিসি সানজিদা। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো নানা অভিযোগ থাকলেও থাকে রক্ষায় ময়িার প্রভাশালী চক্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত সময়ের প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিকভাবে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের প্রতি মানুষের ক্ষোভ আছে, কারণ পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে না করে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্যাডার হিসেবে কাজ করেছে। কমান্ডিং থেকে নিচের স্তর পর্যন্ত সবাই অসুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে সময় পার করেছে। আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবাহ হয়ে কাজ করতে হয়েছে পুলিশকে। অন্যায় আদেশ পালন করার পাশাপািশ সবকিছুতে পুলিশ টাকা নিয়েছে বলে একটা দুর্নাম ছিলো। এ অবস্থা থেকে পুলিশকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের চাপ নেই। পুলিশে অনেক আবর্জনা আছে। এগুলো দূর করতে হবে। পেশাদার, সৎ, যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়ার মাধ্যমে পুলিশের হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আস্থাভাজন যে কয়জন কর্মকর্তা পুলিশ সদর দফতরে বসে প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠকসহ সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িতদের গ্রেফতার, হয়রানি, গায়েবি মামলা, বিভিন্ন নাশকতার গোপন ফাঁদ তৈরিসহ একতরফা নির্বাচন, মধ্যরাতের নির্বাচন ও ভোটারবিহীন নির্বাচন পরিচালনা করতেন তাদের অন্যতম পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহম্মদ তারিক। আওয়ামী পুলিশি সিন্ডিকেটের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে পরিচিত তিনি। অথচ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর হিসেবে আবু হাসান মুহম্মদ তারিককে বদলি করা হয়েছে। যা নিয়ে পুরো পুলিশ বাহিনীতে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করে পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর হিসেবে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহম্মদ তারিককে বদলি করা জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদের সাথে প্রতারণা। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নেতৃত্বে যে সব কর্মকর্তা পুলিশ সদর দফতরে বসে সারাদেশের ছাত্র-জনতাকে গুলি করাসহ কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন আবু হাসান মুহম্মদ তারিক তাদের অন্যতম। এর পরেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে তাকে পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর হিসেবে বদলি করা হয়েছে যা বর্তমান সরকারের আর্দশের বিরুদ্ধে বলে ওই কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজির আহমেদসহ প্রায় এক হাজার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতাকে হত্যা-হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে সারাদেশে শত শত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাবেক আইজিপিসহ ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও অনেকেই বাকীরা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে। হত্যা মামলার আসামি হয়েও অনেক পুলিশ কর্মকর্তা অফিস করছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং পুলিশ সদর দফতরের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেই।

Advertisement

 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, হত্যা মামলার আসামি পুলিশ কর্মকর্তাদের সবাই পতিত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। এ সব কর্মকর্তারা বিগত ১৫ বছর নানা ধরনের অপরাধের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন এমন বহু অভিযোগ রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে পুলিশে অসন্তুষ বাড়বে। সূত্র জানায়, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনী নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এর পর অন্তর্বতী সরকার গঠিত হলে ধীরে ধীরে কাজে ফেরে পুলিশ। বলতে গেলে এক সপ্তাহের বেশি সময় পুলিশবিহীন চলে দেশ। অনেকের মতে প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে এমনটা হয়নি। গত ৫ নভেম্বর বর্তমান সরকারের ১০০ দিন হলেও এখনো অনেক পুলিশ সদস্য কাজে যোগ দেননি। আবার অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। অবশ্য এরই মধ্যে তাদের পলাতক হিসেবে ঘোষণা করে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে সরকার।