(ভিডিও)এক জন শিক্ষক যেভাবে বাঁচালেন ১৬৪৩ শিশুর প্রাণ

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,নেপাল  প্রতিনিধি,সোমবার,৩১ আগস্ট ২০২৬,১৬ ভাদ্র ১৪৩৩১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

রাজেন্দ্র দাওয়াদি স্কুলে থাকা অবস্থায় সতর্কবার্তা পান যে, ভয়াবহ বন্যা এলাকার দিকে ধেয়ে আসছে। তিনি দ্রুত স্কুল খালি করার নির্দেশ দেন এবং নেপালের নুয়াকোট জেলার মারাত্মক আকস্মিক বন্যা থেকে ১ হাজার ৬৪৩ জন শিশুকে বাঁচাতে সাহায্য করেন।

 

৪৭ বছর বয়সী দাওয়াদি ত্রিশূলী উপত্যকার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এবং ইংরেজি শিক্ষক। বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে, এক বন্ধু তাকে ফোন করে সতর্ক করেন যে কাছের একটি গ্রাম নদীর স্রোতে ভেসে গেছে। তিনি দাওয়াদিকে দ্রুত সরে যেতে বলেন।

 

দাওয়াদি প্রথমে ভেবেছিলেন স্কুলটি নিরাপদ। তিনতলা কংক্রিটের ভবনটি নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উপরে ছিল। কিন্তু দ্রুত একজন অভিভাবক স্কুলে ছুটে এসে জানান, পানি দ্রুত বাড়ছে।

তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকদের শিশুদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে আনতে বলেন। তিনি স্কুল বাসের চালকদেরও ফোন করে ফিরে যেতে বলেন। ততক্ষণে, একটি বাস যার সাথে তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি, সেটি ইতিমধ্যেই সেতু পার হয়ে গিয়েছিল।

 

শিশুরা উঁচু জায়গার দিকে এগোতে শুরু করল। একটি মেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাকে মোটরবাইকে করে পাহাড়ের উপরে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য শিশুরা দৌড়াতে থাকে, আর দাওয়াদি তাদের অনুসরণ করেন। অবশেষে শিশুরা একটি বোধি গাছের নিচে আশ্রয় নেয়।

 

এর কিছুক্ষণ পরেই বন্যার পানি এলাকাটি ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কাদা, পাথর, বরফ এবং ধ্বংসাবশেষ স্কুলসহ বিভিন্ন ভবন, সেতু এবং অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু ১ হাজার ৬৪৩ জন শিশুর সবাই বেঁচে যায়। স্কুলের বেশিরভাগ কর্মীও রক্ষা পান। তবে, দুজন কর্মী মারা যান।

৩২ বছর বয়সী সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সান্তোস পারিয়ার নদীর কাছে তার ভাড়া করা ঘরে সকালের নাস্তা রান্না করতে ফিরে গেলে স্রোতে ভেসে যান। স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামাও স্কুলের দরজা বন্ধ করতে ফিরে গেলে মারা যান।

Advertisement

 

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে লাংটাং লিরুং চূড়া থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর খসে পড়ায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এই বিশাল স্তূপটি প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার উপর থেকে লেন্দি খোলা নদীর উজানে পতিত হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এই হড়পা বানে ৭৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।