ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার ঘোষণা, পুলিশ ফিরিয়ে আনছে স্ত্রীকে

SHARE

সবুজ ব্যাপারী

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,মোংলা প্রতিনিধি, শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২৬ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪৩৩ || ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:

দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে গেছেন স্ত্রী। সঙ্গে নিয়ে গেছেন স্বামীর ঠিকাদারি কাজের ১০ লাখ টাকাও। পাঁচ দিন ধরে স্ত্রী-সন্তানদের কোনো খোঁজ না পেয়ে এবং যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিমানে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন ৩৯ বছর বয়সী সবুজ ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তি। পরে পুলিশ গিয়ে সবুজকে নিবৃত্ত করার পাশাপাশি তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন সবুজের স্ত্রী।

Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন মোংলা শহরতলীর সিগন্যাল টাওয়ার এলাকার আব্দুর রব হাওলাদারের বাসায় ভাড়া থাকা সবুজ ব্যাপারী। তিনি মোংলা ইপিজেডসহ বিভিন্ন সংস্থায় সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ঠিকাদারি কাজের বিল হিসেবে প্রায় ১০ লাখ টাকা পান সবুজ ব্যাপারী। ওই টাকা তিনি তার স্ত্রীর কাছে জমা রাখেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রায় পাঁচ দিন আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে বরিশালে বাবার বাড়িতে চলে যান। যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যান ওই ১০ লাখ টাকাও। তিনি তার স্বামীর ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ও যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্লক করে দেন। স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে না পেরে এবং হঠাৎ করে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সবুজ।

 

একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন সবুজ। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। খবর পৌঁছে যায় মোংলা থানা পুলিশের কাছেও। পরে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমানের নির্দেশে এসআই মোর্শেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি সবুজের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে অনুরোধ করেন। পারিবারিক সংকট ও মানসিক অস্থিরতার বিষয়টি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার পরামর্শ দেন তিনি।

 

শুধু সবুজকে শান্ত করেই থেমে থাকেননি এসআই মোর্শেদ। তিনি তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়টি তাদের কাছে তুলে ধরেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য স্ত্রীকে সন্তানদের নিয়ে স্বামীর কাছে ফিরে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

পুলিশের ওই উদ্যোগের পর পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সবুজের স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বরিশাল থেকে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

Advertisement

 

পুলিশের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রাও। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া পুলিশের এমন ভূমিকা প্রশংসনীয়।