ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,কক্সবাজার ব্যুরো প্রতিনিধি, শনিবার,০৩ অক্টোবর ২০২৬,১৮ আশ্বিন ১৪৩৩২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ :
কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্র কলাতলীতে শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে কিংবা দিনের আলোয় টিনের বেড়ার আড়ালে গড়ে উঠছে একের পর এক নতুন স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত আদেশ থাকা সত্ত্বেও থেমে নেই নির্মাণকাজ।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
কলাতলী পুলিশ বক্স থেকে ওশান প্যারাডাইস-সংলগ্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ১১টি কাউন্টার, ট্রাভেল এজেন্সি ও চায়ের দোকান গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই এলাকায় আরো ১৯টি দোকান নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১০টি দোকানের নির্মাণকাজ শেষের পথে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব দোকান বরাদ্দের নামে প্রতি দোকান থেকে ৫ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম ‘সালামি’ এবং মাসিক প্রায় ২০ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের বেড়ার ভেতরে বেশকিছু শ্রমিক নির্মাণকাজ করছেন। সাংবাদিক পরিচয়ে ভেতরে প্রবেশের পর নির্মাণকাজের বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীসহ শ্রমিকরা স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
নির্মাণস্থলের মাঝখানে টাঙানো একটি সাইনবোর্ডে আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশনার কথাও লেখা আছে। অথচ সেই নির্দেশনার মধ্যেই নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রসাদ প্যারাডাইসের মালিক ইউসুফ আবদুল্লাহ এই জমির মালিক দাবি করলেও বৈশাখী রেস্টুরেন্টের মালিক কামরুলের নেতৃত্বে এই দখল-বাণিজ্য চলছে। ডলফিন মোড়সংলগ্ন বৈশাখী রেস্টুরেন্ট এলাকার ঘেরা দেওয়া জমির পরিমাণ ৪ দশমিক ৫০ একর বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জমিতে টানানো নোটিশেও ৪ দশমিক ৫০ একর জমির কথা উল্লেখ করে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।
কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে আগে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলোর মধ্যে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে বেশ কিছু প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে ১৩০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ৮৭টি প্লটের মধ্যে ৫৭টি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। এর মধ্যে এই প্লটও রয়েছে বলে জানা গেছে।
তাই বৈশাখী রেস্টুরেন্টসংলগ্ন ৪ দশমিক ৫০ একর জমিটি ঠিক কোন দাগ, খতিয়ান ও প্লটের অন্তর্ভুক্ত এবং এর বর্তমান বৈধ মালিকানা বা বরাদ্দের অবস্থা কীÑতা নিশ্চিত নয়।
এ বিষয়ে বৈশাখী রেস্টুরেন্টের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, জমিটি আমাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া প্লট। সরকার এ বরাদ্দ বাতিল করেনি। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছেন। এ কারণে নিজেদের বরাদ্দকৃত জায়গা সুরক্ষিত রাখতে আমরা সেখানে ঘেরাবেড়া দিচ্ছি।
কক্সবাজারের কলাতলী ও সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি, বাতিল ইজারা এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিলতা রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট এলাকায় সরকারি খাসজমি, গণপূর্তের জমি এবং বাতিল ইজারার জমি নিয়ে পৃথক প্রশাসনিক অবস্থার কথা উঠে এসেছে।
এর আগে কলাতলীতে আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আবার ২০২২ সালে কলাতলীর গণপূর্তের একটি মাঠ থেকে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তথ্যও প্রকাশিত হয়।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছেÑআদালতের নির্দেশনা থাকার পরও যদি নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে কীভাবে এত বড় নির্মাণকাজ চলছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কারা এসব স্থাপনা থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেনÑতা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, বাতিলকৃত সরকারি প্লটে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলেও জানান তিনি।
-
Advertisement

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই অবস্থানের পর কলাতলীতে কথিত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ হয় কি না এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।



