(ভিডিও)আমি থেমে থাকব না: তানজিন তিশা

SHARE

https://www.facebook.com/share/v/19nocWSBpb/

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিনোদন প্রতিনিধি, শনিবার,০৭ নভেম্বর ২০২৬,২২ কার্তিক ১৪৩৩২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮:

দীর্ঘদিনের নানা বিতর্ক ও প্রতিকূলতার প্রসঙ্গ তুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শুটিং সেটে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধ থেকে শুরু করে অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠক এবং সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত; সবকিছু নিয়েই ফেসবুক লাইভে কথা বলেছেন তিনি। একইসঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশ করে কারো পেশাগত ক্ষতি করার চেষ্টারও সমালোচনা করেন এই অভিনেত্রী।

  • Advertisement

    • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে প্রায় ২৫ মিনিটের ফেসবুক লাইভে তিশা জানান, ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে তার বক্তব্যের পাশাপাশি শুটিং সেটে উপস্থিত ব্যক্তিদেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার দাবি, সেদিন কী ঘটেছিল, তা জানতে হলে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যটি দেখতে হবে। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠকে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

লাইভে তিশা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা আমাদের সমালোচিত করে। আমরা যারা কাজ দিয়ে টিকে থাকতে চাই, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে। একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে, ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিয়ে সব বলে দেব কিংবা সাংবাদিকদের জানাব, যাতে কারো ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়।”

গত এক বছরে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিশা বলেন, “গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি–কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।”

 

গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি–কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে

 

তিশা বলেন, গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি–কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে

শুটিংয়ের দৃশ্য দেখার আহ্বান

 

গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ের সময় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সামিয়া অথৈ। সামিয়ার অভিযোগ, নাটকের একটি দৃশ্যে তাকে আলতো করে চড় মারার কথা থাকলেও তিশা একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তিনি আহত হন বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী।

 

তবে, শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তার বক্তব্য, চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি অভিনয় করেছেন; ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।

ফেসবুক লাইভে শুটিংয়ের ঘটনা নিয়ে তিশা বলেন, “‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে একজন মহান শিল্পী আছেন। তার সঙ্গে আমার একটা সমস্যা হয়েছিল। পুরো শুটিং সেটের সবাই সেই ঘটনার সাক্ষী। কী হয়েছে, কী হয়নি, সবাই দেখেছেন।”

নিজের চরিত্রের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরো বলেন, “আমার পাগলের চরিত্র তো আমি করেছি। নাকি আরেকজন পাগলের চরিত্র করেছে, সেটাও আপনারা দেখেছেন। কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। দৃশ্যটি দেখলেই বুঝবেন, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে। নির্যাতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটাও আপনারা বুঝতে পারবেন।”

 

সালিশ বৈঠক ও সদস্যপদ স্থগিত

শুটিংয়ের ঘটনা নিয়ে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগ নেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানান, একাধিকবার দুই পক্ষের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে দুজনকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। তবে, সংগঠনের সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি।

সালিশ বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিশা বলেন, “আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে, সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।”

তানজিন তিশা

অভিনেত্রী জানান,  আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে

সালিশের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, “বলা হয়েছিল, আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনো কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।”

গত ৪ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈর কাছে পৃথক চিঠি পাঠায় অভিনয়শিল্পী সংঘ। সেখানে জানানো হয়, গত ৭ জুলাই তাদের সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কেউই জবাব জমা দেননি। পরে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় দুজনের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে রাশেদ মামুন অপু গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা দুই শিল্পীর সঙ্গে একাধিকবার বসেছি। তাদের বক্তব্য শুনেছি, বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। চেয়েছিলাম, তারা নিজেদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দূর করে সমঝোতায় পৌঁছান। বিষয়টি মিটমাট হয়েছে জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কেউই সংগঠনের প্রস্তাব মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী দুজনের সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তিশা

গত ৪ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈর কাছে পৃথক চিঠি পাঠায় অভিনয়শিল্পী সংঘ

‘আমি হাল ছাড়ব না’

ফেসবুক লাইভের শেষ দিকে গত আট মাসের নানা প্রতিকূলতার কথাও বলেন তিশা। তবে, এসব পরিস্থিতি তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি বলে জানান অভিনেত্রী। নিজের অবস্থানের প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আট মাস ধরে যত বাধাই আসুক, যা-ই ঘটুক, আমি থেমে নেই। আমি থেমে থাকব না। আমি হাল ছাড়ব না। এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাটা বলতে পারছি, কারণ আমি জানি, আমি ভুল কিছু করিনি।”

  • Advertisement

এদিকে, সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিশা প্রকাশ্যে কথা বললেও সামিয়া অথৈর পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় সংগঠনের পরবর্তী উদ্যোগ কী হবে, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়। তবে, তিশার বক্তব্যে আপাতত নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিতই মিলেছে।