ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, বৃহস্পতিবার,০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৯ ভাদ্র ১৪৩৩২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র করার অঙ্গীকার করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতেও তেহরানকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
কিরগিজস্তানে দুই দিনের একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়া শেষে পুতিন তার এমন অনড় অবস্থানের কথা জানান। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে মন্তব্য করেন।
এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বিরল এক সফরে মস্কো যান। সেখানে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এর পরপরই উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে মন্তব্য করলেন পুতিন।
পুতিন বলেন, ‘আমরা যাদের ভালোভাবে চিনি এবং সাধারণভাবে যাদের ওপর আস্থা রাখি, তাদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’
তিনি উল্লেখ করেন, ওই দুই বিশেষ দূতের ওপর ট্রাম্পের আস্থা রয়েছে এবং তারা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পুতিন বলেন, ‘তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মানুষ।’
জন র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়ে জানতে চাইলে পুতিন বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে। তবে তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের আলোচনা ‘কিছুটা হলেও স্থগিত’ রয়েছে।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ১০ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠক চলাকালে এবং পরে এসব কথা বলেন পুতিন।
পুতিনের এ উপস্থিতির সময় ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক একপর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে।
বিশকেকে দেওয়া বক্তব্যে পুতিনও এ আগ্রাসী অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ রুশ বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি আর্থিক সংকটের ঝুঁকিতে পড়ছে।
পুতিন বলেন, ‘আমি বলছি না যে আমরা সেখানকার অর্থনীতি ধসিয়ে দেব। তবে এটি তাদের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের ড্রোনের কারণে রাশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপদ থাকবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুতিন ওই মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
পুতিন বলেন, ‘আমি এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে তারাই আমাদের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে চাইছে, ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ করছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।’
যুদ্ধের এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ায় চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর নতুন করে সেনা নিয়োগ বা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে উদ্বেগও বাড়ছে। পুতিন তার বক্তব্যে এমন আশঙ্কাকে ‘আজেবাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার এসসিও বৈঠকের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের ‘সাহস ও দৃঢ়তার’ প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিয়ে আসছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যও তেহরানকে দিয়েছে মস্কো। এ ছাড়া ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ইরানে ড্রোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাঠিয়েছে রাশিয়া।
কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির পর চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে। বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্টকে পুতিন বলেন, ‘এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও আমরা সরবরাহ করছি।’
-
Advertisement

বিশকেকে এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পুতিন বলেন, সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো। কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তা করতে প্রস্তুত।’



