(ভিডিও)যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিন্থ করতে ইরানের সাথে মিলে ভ*য়*ঙ্ক*র পরিকল্পনা রাশিয়ার |

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, বৃহস্পতিবার,০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৯ ভাদ্র ১৪৩৩২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে এমন সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানকে গোপনে সহায়তা করছে রাশিয়া।

  • Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

দি টেলিগ্রাফের বরাতে সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানের কাছে এই সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি ক্রেমলিনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদিত হয়েছে।

‘সি৩৪০এল’ কোড নামে পরিচিত এই গোপনীয় কর্মসূচিটি ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যেও তা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে একটি রামজেট প্রপালশন সিস্টেম বা ইঞ্জিন তৈরিতে সহায়তা করা, যা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে উড়তে সক্ষম করে তোলে।

প্রতিবেদনে সাবেক সিআইএ সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, ইরানের জন্য এটি একটি নতুন এবং গুণগত কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা প্রদান করবে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত কম উচ্চতায় এবং রাডারকে ফাঁকি দিয়ে ভূমির কাছাকাছি দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ২,২০০ মাইল বেগে উড়ে চলে, যার কারণে এগুলোকে বাধা দেওয়া বা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

যদিও ইরান ইতোমধ্যে এই রামজেট প্রপালশন সিস্টেম তৈরি এবং পরীক্ষা করেছে, তবে এটি বর্তমানে মাঠে বা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফাবিয়ান হিনজ বলেন, এটি রাশিয়ার পক্ষ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি কৌশলগত সামরিক প্রযুক্তির হস্তান্তর, যা অর্জনের জন্য ইরান দীর্ঘ দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের একটি কর্মসূচির জন্য রাশিয়ার একেবারে শীর্ষ পর্যায় থেকে রাজনৈতিক সবুজ সংকেত বা অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি বলেন, ইউক্রেনের শহরগুলোতে নৈশকালীন বোমা হামলার জন্য ইরানি ‘কামিকাজে’ শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে তেহরান। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জন্য ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে মস্কো। তাদের এই সহযোগিতার অর্থ হলো—রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও প্রসারিত করতে চাইছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ভিন্ন কোনো রণক্ষেত্রে টেনে আনতে সচেষ্ট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের রেড লাইন বা লাল রেখা নিয়ে রাশিয়ার খুব একটা মাথাব্যথা নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিটির ব্যবস্থা করেছিল রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘রোসোবোরোনএক্সপোর্ট’। তারা রাশিয়ার রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েভিয়া’-র সাথে মিলে এই প্রকল্প সমন্বয় করে।

উল্লেখ্য, এই রুশ কোম্পানিটি ২০১৪ সাল থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েভিয়া রামজেট প্রপালশন সিস্টেমের ওপর ইরানি প্রযুক্তিগত উপকরণের একটি বড় ভাণ্ডার হাতে পায়। রুশ প্রকৌশলীরা একটি ইরানি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেন এবং এর কার্যকারিতা কেমন ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন সম্বলিত একটি বিস্তারিত তালিকা পাঠান।

বলা হচ্ছে, এই কর্মসূচিতে এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েভিয়ার শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকৌশলীদের দক্ষতা ব্যবহার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ ২০২৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই ইরান সফর করেছিলেন।

এদিকে, মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে সাক্ষাতকালে বলেন যে, মস্কো এই কঠিন সময়ে আপনাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধের এই সময়ে আপনাদের যেসব সামগ্রী প্রয়োজন, তা সরবরাহ করছে।

উল্লেখ্য, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লড়াই কিছুটা স্তিমিত থাকার পর গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে।

  • Advertisement

রবিবার হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী, যার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও আরও বিমান হামলা চালানো হয়। এর জবাবে আমেরিকার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান।

ছবি: সংগৃহীত