ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম, সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়া প্রতিনিধি,মঙ্গলবার,০২ জুন ২০২৬,১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭ :
অনলাইন অ্যাপে বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
-
Advertisement
-
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
তিনি কখনও নিজেকে ৪০০ বছর বয়সী ‘জিনের বাদশা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন, আবার কখনও অনলাইন অ্যাপে বিনিয়োগ করে মোটা লাভের প্রলোভন দেখাতেন।
আব্দুল হামিদ উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, গত ১ জুন মমতাজ বেগম (৩১) নামে এক নারী সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে মো. আব্দুল হামিদ বাদীর কাছে গিয়ে ইকো ভোল্ট নামের একটি সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসে বিনিয়োগ করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখান। তার কথায় আকৃষ্ট হয়ে বাদীর মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন গ্রাহক ওই অ্যাপে বিনিয়োগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন আব্দুল হামিদ। পরে সিইএফ নামে আরেকটি অ্যাপে বিনিয়োগের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে ইকো ভোল্ট অ্যাপটি অকার্যকর হয়ে গেলে নতুন করে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আরও ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। সবমিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।
ঘটনার পর সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে আব্দুল হামিদকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং প্রতারণামূলক অ্যাপস সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে অ্যাপ চালু করে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন। কিছুদিন পর অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিয়ে নতুন অ্যাপ চালুর মাধ্যমে আবারও বিনিয়োগের আহ্বান জানাতেন।
পুলিশের দাবি, গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে বা যোগাযোগ করলে তিনি ‘Hamkail Moakael’ নামের একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিতেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।
মামলার বাদী মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমি একটি টিমের লিডার। আমার টিমের ১০০ জন তার ওখানে সবমিলিয়ে ২১ লাখ টাকা ইনভেস্ট করে। পরে দেখি অ্যাপ সাদা হয়ে গেছে। তাই আমি ভয় না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।’
-
Advertisement

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, ‘আসামি ২টি অ্যাপ বানিয়ে প্রতারণা করতেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। এভাবে প্রায় ১০০ জন মানুষের ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি তিনি ফেইক আইডি দিয়ে ৪০০ বছর বয়সী ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে ভয় দেখাতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, আমরা সেটি যাচাই-বাছাই করছি। পাশাপাশি আমরা আরও তদন্ত করছি।’

আটক হওয়া মো. আব্দুল হামিদ। ছবি: ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম


