‘মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ’ কী ট্রাম্প প্রশাসনের ২ ইহুদির হাতেই?

SHARE

ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ছবি: সংগৃহীত

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩ || ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে আধিপত্য বিস্তারে বারবার মধ্যস্থতার কূটনীতির জোরালো প্রয়োগ দেখা যায়। অর্থাৎ আঞ্চলিক অস্থিরতায় কিছু নীতিগত বিধান সামনে রেখে সমাধানের পথ দেখায় ওয়াশিংটন। ট্রাম্প ক্ষমতায় আশার পর এমন পদক্ষেপ আরও জোরালো হয়েছে বিশেষ করে হামাস-ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে। আর এই মধ্যস্থতায় ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে বরাবরই নেতৃত্ব দেন দুই ইহুদি কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

স্টিভ উইটকফ বর্তমানে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং গাজা সংঘাত, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছেন। ২০২৫ সালে গাজা যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময় আলোচনায় তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। একইভাবে ২০২৫–২০২৬ সময়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনায়ও তাকে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় ভূমিকায়।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্য নীতির অন্যতম স্থপতি ছিলেন। তবে, এবার কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরেছেন। হাই-স্টেক বা জটিল কূটনৈতিক আলোচনায় ট্রাম্প এখনও কুশনারের ওপর নির্ভর করছেন। বিশেষ করে ইরান ইস্যু এবং আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণে তিনি অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে সক্রিয়। এই দুই ব্যক্তির একসঙ্গে কাজ করাই এখন বিশ্লেষকদের আলোচনার মূল কেন্দ্র।

বিশ্লেষকদের ধারণা উইটকফ হলেন অফিসিয়াল মুখ, কিন্তু কুশনারের প্রভাব নীতিনির্ধারণের গভীরে। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, এটি একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক কূটনীতি, যেখানে প্রচলিত অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের বদলে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই বড় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছেন। আবার কেউ কেউ ইহুদি এই দুই ব্যক্তির বড় ভূমিকাকে ট্রাম্প প্রশাসনে ইসরায়েল ও ইহুদিবাদের একটি বড় প্রভাবের অংশ হিসেবে দেখছেন।

২০২৬ সালের শুরুতে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় উইটকফের নেতৃত্বে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, পরবর্তীতে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং নির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়। এই ঘটনাগুলো দেখায় যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে থাকলেও মাঠপর্যায়ে আলোচনা চালাচ্ছেন তার বিশ্বস্ত দুই প্রতিনিধি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদেও কুশনারের নেতৃত্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ড বাস্তবায়িত হয়েছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবারও ট্রাম্প তার সেই ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করছেন।

পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি সংকট এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এমন এক কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক আধিপত্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও জোটভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, আর এ জন্য দরকার তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত মিত্র ইসরায়েলকে টেনে মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে তুলে আনা। এরই অংশ হিসেবে উইটকফ ও কুশনারকে আলোচনায় পাঠানো প্রকৃতপক্ষে একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েও নিজেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। একইসঙ্গে এটি উপসাগরীয় দেশগুলোকে দেখানোর একটি উপায় যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমাধানের চাবিকাঠি ওয়াশিংটনের হাতেই।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যচুক্তির ওপর জোর দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শত শত বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং ওপেক সংগঠন দুর্বল করার প্রচেষ্টা এই প্রচেষ্টারই অংশ। এর ফলে ইরানের আধিপত্য কমানো ছাড়াও ঐতিহ্যগত সৌদি-নেতৃত্বাধীন শক্তির ভারসাম্য নড়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ নতুন অর্থনৈতিক ব্লক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া, ইরানকে ইস্যুতে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তোলাও এই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ইরানের সঙ্গে সংঘাত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সংকট এবং সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে আঞ্চলিক অস্থিরতা বজায় রাখছে, অন্যদিকে সেই অস্থিরতা মোকাবিলায় নিজেকে অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। আর এগুলো বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন উইটকফ ও কুশনার।

গাজা দখল
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসন যখন হাজার হাজার নারী-শিশুসহ সাধারণ ফিলিস্তিনিদের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছিল তখন মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সংঘাত বন্ধে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেনি ইসরায়েল। তবে, সবশেষ উইটকফ ও কুশনারের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্ততার উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেয় তেল আবিব।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন একটি বিস্তৃত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থনও পায়। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়ই হলো- গাজা থেকে হামাসের নেতৃত্বকে চিরতরে নির্মূল করে দেয়া। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল- যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়, গাজার সামরিকীকরণ হ্রাস, একটি অন্তর্বর্তী টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসন গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গাজা প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটি (এনসিএজি) এবং একটি আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য- গাজার শাসন, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন তদারকি করা। উইটকফ এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় কূটনৈতিক মুখ ছিলেন। তিনি যুদ্ধের পর গাজার প্রশাসনিক রূপান্তরের নকশা বাস্তবায়নে কাজ করেন। আর কুশনার উইটকফের সঙ্গে মিলে গাজা পুনর্গঠনের জন্য একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করেন। কুশনারের মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এই পরিকল্পনার অর্থায়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে গাজার জন্য একটি বহুপাক্ষিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হয়। আর তা হলো- একটি আন্তর্জাতিক বোর্ড, একটি স্থানীয় টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসন ও একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন। এই কাঠামোতে কুশনার ও উইটকফ উভয়েই নির্বাহী পর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন।

ইরানকে একদিকে আলোচনায় রেখে অন্যদিকে আক্রমণ
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনা এখন চলমান। এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় প্রায় সবগুলো দেশে। তবে, এর প্রেক্ষাপট তৈরি হয় গেল বছরের মাঝামাঝিতে, যখন ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক ইনরিচ ইউরোনিয়াম আছে বলে অভিযোগ তোলে ইসরায়েল।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে দেখে একটি চুক্তির লক্ষ্যে তখন কাজ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ওমানের মাসকাটে শুরু হয় প্রথম দফা আলোচনা। সেখানেও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মধ্যস্ততার নেতৃত্ব দেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ওই মাসেই ইতালির রোমে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা হয়। এই আলোচনা পরের মাসেও ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। এসব আলোচনার মধ্যেই তেহরানকে ৬০ দিনের সময়সীমা বেধে দেন ট্রাম্প।

পরে আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই ১২ জুন ইসরায়েল হামলা চালায় ইরানের অন্তত ৮টি শহরে। পাল্টা আক্রমণ হিসেবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় চালায় ইরানও। পরে ১২ দিন স্থায়ী হয় সেই সংঘাত এবং শেষ দিকে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অন্তত তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় থামে সেই উত্তেজনা।

এ বছরও ঠিক একইরকমভাবে উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই হামলা করে বসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ইরানের সামরিক শক্তি রোধে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে চাপ দিয়ে আলোচনা শুরু করে ওয়াশিংটন। কিন্তু তা শেষ না হতেই ২৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও শীর্ষ নেতৃত্ব লক্ষ্য করে তেহরানে বিমান হামলা চালায়। প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরানও, বন্ধ করে দেয় বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল বাণিজ্যের অন্যতম সামুদ্রিক চ্যানেল হরমুজ প্রণালি।

অনেকের ধারণা আলোচনার কথা বলে ইরানকে ব্যস্ত রেখে হামলার নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায় ওয়াশিংটন-তেল আবিব। আর এটি বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করে উইটকফ ও কুশনার। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এই দুই কূটনীতিকের পরামর্শ নেয়া হয় বলেও মনে করেন অনেকে।

অবশ্য এক মাসের বেশি সময় ধরে সংঘাত চলার পর তেল বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এছাড়া ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ট্রাম্পের এতবড় পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়, কারণ ইরানের শাসনব্যবস্থায় নতুন মুখ হিসেবে আসেন তৎকালীন নেতা আলি খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি।

এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর চাপে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হন ট্রাম্প। ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যদিও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি আর এ কারণে ইরানে হামলা বন্ধ হলেও, উত্তেজনা ছিল চরমে।

এর কয়েকদিন পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেন। প্রথমবারের মতো সরাসরি সেই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর এই প্রথমবার আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও নেতৃত্বের বাইরে ছিলেন উইটকফ ও কুশনার। তাই ধারণা করা হচ্ছিল সেই আলোচনা হয়তো ফলপ্রসূ হবে। কিন্তু ইসরায়েলের হস্তক্ষেপে সেটিও ভেস্তে যায়। এরপর ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এরপর দ্বিতীয় দফা আলোচনার চেষ্টা হয় এপ্রিলের শেষ দিকে। কিন্তু ইসলামাবাদে যাত্রার আগেই ইরানকে ঘিরে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, নির্ধারিত সফরে আর যাচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।

Advertisement

অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি একটি জটিল কূটনীতি ও শক্তির সমন্বিত কৌশল, যেখানে স্টিভ ইউটকফ ও জ্যারেড কুশনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার বিশ্বব্যাপী প্রভাবের একটি অংশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের পুরো অঞ্চলের ‘ভাগ্য’ তাদের একক নিয়ন্ত্রণে। আর এ জন্য ইরানকে সরিয়ে ইসরায়েলের আধিপত্য বিস্তারের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও সৌদি আরবের একটি বড় প্রভাব এ অঞ্চলে বিদ্যমান। তবে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শীর্ষ প্রভাবশালী সংগঠন ওপেক থেকে সম্প্রতি আরব আমিরাতের বের হয়ে যাওয়া রিয়াদের আঞ্চলিক শক্তির প্রভাবকেও ভঙ্গুর করে দেয়ার প্রয়াস হতে পারে। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে উপসাগরীয় দেশগুলো, আর এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ইহুদিবাদী ইসরায়েল।