(ভিডিও)মাটির গভীরে থাকা অবিস্ফোরিত ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা নিষ্ক্রিয় করল ইরান

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,শনিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩৩ || ৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

ইরানের ইয়াজদ প্রদেশের একটি আবাসিক এলাকায় মাটির গভীরে পুঁতে থাকা অবিস্ফোরিত একটি ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের হামলা চলাকালে নিক্ষিপ্ত এ শক্তিশালী বোমাটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও বিস্ফোরিত হয়নি। এটি আবাসিক এলাকার প্রায় ১৩ মিটার (প্রায় ৪৩ ফুট) মাটির নিচে ঢুকে গিয়েছিল।

 

ইয়াজদের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং স্থানীয় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা যৌথভাবে এ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেন। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই বোমাটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

 
বাংকার বাস্টার বা বাংকার বিধ্বংসী বোমা হলো এক বিশেষ ধরনের শক্তিশালী সামরিক অস্ত্র, যা মাটির গভীরে, কংক্রিটের তৈরি সুরক্ষিত বাংকার বা আন্ডারগ্রাউন্ড সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এগুলো সাধারণ বোমার মতো ওপর থেকে বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে, মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে তারপর বিস্ফোরিত হয়।
 
  

বাংকার বিধ্বংসী বোমার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

বিশাল প্রবেশ ক্ষমতা: এই বোমাগুলো শত শত ফুট মাটি বা কংক্রিট ভেদ করতে সক্ষম। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের জিবিইউ-৫৭ প্রায় ২০০ ফুট বা ৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত কংক্রিট ভেদ করতে পারে।

 
ওজন ও ক্ষমতা: এগুলো অত্যন্ত ভারী হয় (যেমন ৩০,০০০ পাউন্ড বা ১৩,৬০০ কেজির বেশি) এবং বিশেষ বোমারু বিমান (যেমন বি-২ স্পিরিট) থেকে নিক্ষেপ করা হয়। 
 
ফাংশন বা ফিউজ: এই বোমাগুলোতে বিশেষ ‘ভয়েড-সেন্সিং ফিউজ’ থাকে, যা মাটির গভীরের বাংকারে পৌঁছানোর পর বিস্ফোরিত হয়।
 
লক্ষ্যবস্তু: ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার, গোলাবারুদের ডিপো, এবং ড্রোন কারখানা ধ্বংস করতে এগুলো ব্যবহার করা হয়। 
 

Advertisement

 
ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বাংকার বাস্টার (যেমন, বিএলইউ-১২২ বা জিবিইউ-৫৭) ইরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।