মেঘনায় নারী নির্যাতন-ছিনতাই মামলায় তিন নারী গ্রেফতার

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,সাংবাদিক ইব্রাহীম মেঘনা থেকে,শনিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩৩ || ৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নারী নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের পৃথক দুই মামলায় তিন নারীকে গ্রেফতার করেছে মেঘনা থানা পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা থানার উপ-পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

তিনি জানান, এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেফতারের একদিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ২ নম্বর আসামি মোছা. ছাবরিনা আক্তার ওরফে ববি (২৩)। তিনি উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণকান্দি গ্রামের আব্দুল বাতেনের মেয়ে। তাকে শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে মানিকারচর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার বাদী মোছা. পলি আক্তার এজাহারে অভিযোগ করেন, প্রায় আট বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তার বিয়ে হয় প্রধান আসামি হৃদয়ের সঙ্গে এবং তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী কোনো আয়-রোজগার করতেন না এবং সংসারের খরচ বহন করতেন না; বরং যৌতুকের দাবিতে তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। বিভিন্ন সময়ে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও এক ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্বামী হৃদয় ও গ্রেফতার ছাবরিনা আক্তার একসঙ্গে ঘরে এসে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা বাদীকে মারধর করে আহত করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়।

এদিকে বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা আরেকটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন দুই নারী। এরমধ্যে রুমানা রহমান ওরফে জয়া (২৮) এবং সাথী আক্তার (২৩) রয়েছেন। তাদের মধ্যে রুমানা রহমান উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের শিকিরগাঁও গ্রামের মৃত ইব্রাহীম মৃধার মেয়ে এবং সাথী একই এলাকার মকবুল খান ওরফে মুন্না মিয়ার মেয়ে।

শুক্রবার দিনগত রাত পৌনে ১১টার দিকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলার বাদী মোছা. ছাবরীনা আক্তার অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি অটোরিকশায় করে মানিকারচর বাজারে যাওয়ার পথে আসামিরা তার পথরোধ করে এবং অটোরিকশা থামিয়ে তাকে নামিয়ে মারধর করে। এ সময় রুমানা রহমান তার গলা থেকে আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, জোরপূর্বক নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়। বাদীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং পরে আহত অবস্থায় তাঁকেও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নতুন তথ্য, সাথী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে সংসার জীবন ত্যাগ করে তার মায়ের সঙ্গে ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি নিজেও মাদক সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা যায়। একইভাবে ছাবরিনা আক্তার ববি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।

অপরজন রুমানা আক্তার জয়ার বিরুদ্ধেও হানি ট্র্যাপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর আগে জাতীয় একাধিক দৈনিক পত্রিকায় ববি ও রুমানার বিরুদ্ধে হানি ট্র্যাপ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলেও জানা যায়। এছাড়াও তারা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বিরোধ সৃষ্টি করে বিভিন্ন সময় পুলিশি ব্যবস্থা ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।

Advertisement

এ বিষয়ে মেঘনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে মনোমালিন্য ও বিভিন্ন সময়ে ঝগড়াঝাঁটিতে জড়িত ছিলেন। গ্রেফতার তিন নারী আসামির বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকা এবং বিভিন্ন অভিযোগ দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার বিষয়ে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। একের পর এক পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ সেগুলো মীমাংসা করে দেয়; তবে তাতে স্থায়ী সমাধান হয়নি। সর্বশেষ তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়েছে।