ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি,শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ || ফাল্গুন ৭ ১৪৩২ :
নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও এরইমধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে— রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, এলে কবে এবং কীভাবে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তবে শুরু থেকেই তাকে অপসারণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল বিএনপি। শেষ পর্যন্ত তার কাছেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার শপথ নেয়।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। তিনি পদে থাকা অবস্থায় আইনগতভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই। সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, তিনি পদত্যাগ না করলে বা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত না হলে নতুন কেউ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না।
এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে আইনজীবী ও সংবিধান বিশ্লেষক কাজী জাহেদ ইকবাল বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার নির্দিষ্ট বিধান আছে। পদ শূন্য হলেই কেবল নতুন সংসদ এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও সংস্কার প্রস্তাব
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। অনেকেই এই পদকে ‘আলংকারিক’ বলে উল্লেখ করেন। তবে রাজনৈতিক সংকট বা নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব বাড়ে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর সংসদ ভেঙে গেলে রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বহাল থাকেন। এতে তার গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় আসে।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। এই দুই ক্ষেত্রে আইনি দিক থেকে তাকে কারও পরামর্শ নিতে হয় না। তবে বাস্তবে এ ধরনের ক্ষমতার প্রয়োগ খুব বেশি দেখা যায়নি।
রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় কিছু সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ খুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমানো এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানো।
প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিজ এখতিয়ারে নিয়োগ দিতে পারবেন। তবে কাজী জাহেদ ইকবালের মতে, এসব কার্যকর করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ।
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হয় যেভাবে
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। একজন সর্বোচ্চ দুইবার এ পদে থাকতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির পদ তিনভাবে শূন্য হতে পারে—মেয়াদ শেষ হলে, পদত্যাগ করলে অথবা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হলে। শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা কিংবা গুরুতর অসদাচরণজনিত কারণেও অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেননি বা অপসারিত হননি।
গত ডিসেম্বর মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিজেকে ‘অপমানিত’ মনে করছেন। তবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি পদে বহাল ছিলেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন যেভাবে
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। প্রার্থী হতে হলে তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা হয়।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একজন প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দুইজন সংসদ সদস্য প্রয়োজন হয়। একজন প্রস্তাবক, অন্যজন সমর্থক। একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। যদি তখন অধিবেশন না থাকে, তবে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তত সাত দিন আগে অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।
১৯৯১ সালের আগে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পর সেই পদ্ধতি বাতিল হয়।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?
সামনে কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে। যদি রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দেন, তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না। যেহেতু তিনি আগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাই এ ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন কেউ কেউ।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
তবে সংসদের প্রথম অধিবেশন এখনো শুরু হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সেই অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন হবে কি না, তা নির্ভর করছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত এবং সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন হবে কি না, তা নির্ভর করছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত এবং সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর।



