(ভিডিও)প্রাণভয়ে ‘গৃহবন্দি জীবন’ কাটাচ্ছেন ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, শনিবার,২৯ আগস্ট ২০২৬,১৩ ভাদ্র ১৪৩৩১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভিন্ন হুমকির মধ্যে নিরাপত্তাবেষ্টিত ‘গৃহবন্দি জীবন’ কাটাচ্ছেন। ২০ বছর বয়সী ব্যারন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করেছেন এবং গ্রীষ্মের বেশির ভাগ সময় তার মা, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টারে কাটিয়েছেন।

Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

দ্য পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। মূলত ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠজন দ্য পোস্কটকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আরেক সূত্র বলেন, ‘ছেলেটি বেশ অন্তর্মুখী।’

২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর অন্তত তিনবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনি সমাবেশে তাকে গুলি করে আহত করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচের গলফ কোর্সে এক ‘সম্ভাব্য হত্যাকারী’ তাকে অনুসরণ করেছিল। চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে তিনি উপস্থিত থাকার সময়ও একজন বন্দুকধারী হামলা চালায়।

এসব ঘটনার পাশাপাশি ইরান ট্রাম্পের ছোট ছেলের দিকে নজর দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি ইরান থেকে ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা যায়’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশের অভিযোগও তোলা হয়। ভিডিওটিতে ব্যারনের চলাচল দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তার মাথার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ইরানিদের লক্ষ্যবস্তুতে মেলানিয়া ট্রাম্পও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এসব ঘটনায় ট্রাম্পের ছেলেকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ক হত্যার ঘটনাতেও ব্যারন গভীরভাবে প্রভাবিত হন। কার্কের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কার্কের মৃত্যুর খবর বাবাকে জানানোর সময় ব্যারন তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি বাইরে গেলে এটাই হয়।’ এই বক্তব্য প্রথমে লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের সাম্প্রতিক বই ‘রেজিম চেঞ্জ’-এ প্রকাশিত হয় এবং পরে দ্য পোস্ট তা নিশ্চিত করে।

ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়। দ্য পোস্টকে দেয়া এক বক্তব্যে কার্যালয়টি বলেছে, ‘সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ইস্ট উইং অনুরোধ করেছে, তার ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত যেকোনো বিস্তারিত তথ্য সব ধরনের প্রতিবেদনের বাইরে রাখা হোক।’

মেলানিয়া ট্রাম্প তার ছেলের বিষয়ে অত্যন্ত রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। ওই সময় মার্চে ব্যারনের বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তার সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা প্রত্যাহার হওয়ার কথা ছিল।

তবে মেলানিয়া ট্রাম্প নিজের কার্যালয়কে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ব্যারনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর অনুরোধ জানাতে নির্দেশ দেন। বাইডেন প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেই অনুরোধ দ্রুত অনুমোদন করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি নিজের নামে তথ্যচিত্রে মেলানিয়া তার ছেলের লাজুক স্বভাবের কথাও ইঙ্গিত করেছিলেন।

উদ্বোধনী প্যারেডের অংশ হিসেবে পুরো পরিবার পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে হাঁটার সম্ভাবনা নিয়ে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেলানিয়া বলেছিলেন, ‘আমি জানি ব্যারন বাইরে যাবে না। আর আমি সেটা সম্মান করি।’ শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে উদ্বোধনী প্যারেড ঘরের ভেতরে সরিয়ে নেয়া হয়।

ব্যারনকে দেয়া সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা তাকে সুরক্ষা দিলেও এর ফলে চারপাশের হুমকি সম্পর্কে তার সচেতনতাও বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। নিরাপত্তা এজেন্টদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে কথা বলা শোনা থেকে শুরু করে শেষ মুহূর্তে ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলে যাওয়ার মতো বিষয়ও তার মধ্যে এই সচেতনতা তৈরি করতে পারে।

কিশোরদের মানসিক আঘাত নিয়ে কাজ করা থেরাপিস্ট আজিতা সায়ান দ্য পোস্টকে বলেন, ‘ব্যারন সম্ভবত বাস্তব বিপদ সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন, অনেক বেশি তীক্ষ্ণ এবং অনেক বেশি সতর্ক। অন্তর্মুখী হওয়া মানেই মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া নয়।’ তার মতে, ব্যারন নিজেকে সুরক্ষিত রাখছেন এবং বন্ধুত্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলো জনসমক্ষে না এনে ব্যক্তিগতভাবে করছেন, যা বিকাশের দিক থেকে স্বাস্থ্যকর।

ব্যারনের বাবা-মায়ের প্রতিটি বাসভবনেই তার নিজস্ব জায়গা রয়েছে। মার-আ-লাগোতে তার নিজস্ব স্যুট এবং ম্যানহাটনের মিডটাউন ট্রাম্প টাওয়ারে একটি পুরো তলা তার জন্য রয়েছে। হোয়াইট হাউসে তার কক্ষের আসবাবপত্রও ভবনের কার্পেন্ট্রি শপে তার ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার শরীরের সঙ্গে মানানসই করে তৈরি করা হয়েছে।

যেখানেই থাকুন না কেন, ব্যারন সেখানে পৌঁছানোর পর দ্রুত ভেতরে চলে যান, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে নিজের ব্যক্তিগত জায়গায় চলে যান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র বলেন, ‘তাকে আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় না।’

ব্যারনের এই জীবনধারা তার বড় ভাইবোনদের তুলনায় আলাদা। ডন জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইভাঙ্কা ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় এবং বিভিন্ন পডকাস্টে অতিথি হিসেবে অংশ নেন। টিফানি ট্রাম্পসহ এই তিনজনই নিয়মিত বাবার সঙ্গে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

ব্যারনকে নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনায় তাকে বুদ্ধিমান ও ভদ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প পরিবারের নামের সঙ্গে যুক্ত জনসাধারণের চাপ এবং তার বাবার বড় ধরনের ব্যক্তিত্বের মধ্যেও তিনি ভালোভাবেই বিষয়টি সামলেছেন বলে তারা মনে করেন। ব্যারনের শিক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি রাজনীতির বদলে ব্যবসায় যাওয়ার দিকেই বেশি এগোচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

সর্বশেষ ১৯ জুলাই ব্যারনকে প্রকাশ্যে দেখা যায়। ফুটবলপ্রেমী ব্যারন তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন। তারা ম্যাচটি দেখেন বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে।