(ভিডিও)নারীরা পাবেন দ্বিগুণ মার্কিন সেনা হত্যা ও আটকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,  রোববার,১৬ আগস্ট ২০২৬,১ ভাদ্র ১৪৩৩০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনাকে হত্যা করলে অথবা জীবিত আটক করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করলে ৫ বিলিয়ন তোমান বা প্রায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেয়া হবে।

Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

রোববার (১৬ আগস্ট) প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, জাতীয় সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। ইরানি সেনাবাহিনীকে প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করতে দেশটির নাগরিকদের অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে হাতামি বলেন, এই উদ্যোগের আওতায় মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকের ক্ষেত্রে পুরস্কার দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো সাহসী ইরানি নারী এই কাজ করলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন। একই সঙ্গে অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্র বাজারমূল্যের দ্বিগুণ দামে সেনাবাহিনী কিনে নিয়ে একটি বিশেষ জাদুঘরে প্রদর্শন করবে বলেও জানান তিনি।

অভূতপূর্ব সামরিক পুনর্গঠন
জেনারেল হাতামি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর সাথে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সময় নতুন সক্ষমতা ইতোমধ্যেই প্রদর্শিত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুরা ইরানের সামরিক শক্তি সম্পর্কে মৌলিকভাবে ভুল হিসাব করেছে এবং অতীতের গুরুতর ভুলের পুনরাবৃত্তি করা তাদের উচিত নয়, কারণ ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন নয়।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্দেশিত একটি নতুন সামরিক ও নিরাপত্তা পুনর্গঠনের কথাও তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। বলেন, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী, যে কোনো আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা ইরানকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলবে।

মোজতবা খামেনির আদেশে সামরিক শীর্ষ পদে কৌশলগত নতুন নিয়োগের দিকে ইঙ্গিত করেও কথা বলেছেন জেনারেল হাতামি। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী জুড়ে ছয়জন শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কমান্ডারের পদোন্নতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

একটি স্থায়ী কৌশলগত পরিবর্তন
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইরানি সেনাপ্রধান এই কৌশলগত জলপথটিকে ইরানি জাতির জন্য একটি ঐশ্বরিক ভূ-রাজনৈতিক সক্ষমতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, প্রণালিটি আর কখনও তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে না।

সম্প্রতি প্রণালিটিকে আমেরিকার ভূখণ্ডের অংশ ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন মন্তব্যকে উপহাস করেন জেনারেল হাতামি। বলেন, আপনি খুব ভুল করছেন! এ নিয়ে রসিকতা করাও একটি বিরাট ভুল। এটাই ইরান এবং এর এমন রক্ষক আছে যারা আপনার পা ভেঙে দেবে।

জেনারেল হাতামি তার বক্তব্যে একটি বড় দাবি করেন। তিনি জানান, ইরানি বাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে অন্তত একবার সফলভাবে আঘাত হেনেছে, যার ফলে এর যুদ্ধবিমানগুলো সাময়িকভাবে উড্ডয়ন করতে পারেনি।

ওয়াশিংটন এই ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করলেও, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা এবং এর নাবিকদের মধ্যে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের কারণে রণতরীটি এখন পিছু হটছে। ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে (সিভিএন-৭২) এক অভূতপূর্ব ও দীর্ঘ সময়ের জন্য (২৫০ দিনেরও বেশি) এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।

Advertisement

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটরদের সাম্প্রতিক প্রকাশনায় বিমানবাহী রণতরিটির অবনতিশীল পরিস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে ছত্রাকযুক্ত স্থাপনা, রেশনের মতো খাবার এবং নাবিকদের মধ্যে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, যেখানে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টার খবরও পাওয়া গেছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতামি। ছবি: সংগৃহীত