(ভিডিও)ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক সিলেটে এনসিপির ওপর হামলার নেতৃত্বে আ.লীগ থেকে বিএনপিতে আসা বদরুল

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ৪.কম,সবার দেশ পত্রিকার সৌজন্যে, শুক্রবার,৩১ জুলাই ২০২৬,১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩১৬ সফর ১৪৪৮ :

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনায় শেখ বদরুল হকের বিরুদ্ধে হামলায় উস্কানি ও নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও এবং স্থানীয়দের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ বদরুল হক একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি ইউনাইটেড আরব আমিরাত যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহির ঘনিষ্ঠ বলেও স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বের হয়ে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহিকে শেখ বদরুল হকের পাশে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা বা এতে কারও সম্পৃক্ততা নিয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, শেখ বদরুল হক অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আবার বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া গোলাপগঞ্জে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও শেখ বদরুল হকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার সময় গোলাপগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাদল আহমদকেও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে স্থানীয়রা যাদের শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের ফয়েজ আহমেদ, তানিম ও নাহিদ এবং ফুলবাড়ী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সানাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে শেখ বদরুল হক দলীয় অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে এ হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

Advertisement

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ বদরুল হক, মশিকুর রহমান মহি কিংবা অভিযুক্ত অন্যদের কোনও প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কাউকে গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়নি। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর সত্যতা বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।

ছবি: সংগৃহীত