(ভিডিও)জাপানের আমামি ওশিমা (Amami Oshima) দ্বীপে বিষাক্ত হাবু সাপ মারার জন্য বেজি ছাড়া হয়

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, শুক্রবার,২৪ জুলাই ২০২৬,৯ শ্রাবণ ১৪৩৩০৯ সফর ১৪৪৮ :

 

জাপানের আমামি ওশিমা (Amami Oshima) দ্বীপে বিষাক্ত হাবু সাপ মারার জন্য বেজি ছাড়ার পর তা উপকারের চেয়ে বড় পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে এনেছিল । ১৯৭৯ সালে নেওয়া এই পরিকল্পনাটি প্রায় ২৫ বছর পর বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দেয়, কারণ যে বেজিগুলো সাপ মারার কথা ছিল, তারা সাপ না মেরে দ্বীপের দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রাণী খাওয়া শুরু করে 
এই ঘটনার মূল কারণ এবং এর পরবর্তী পরিণতিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দিন ও রাতের অমিল (শিকারের সময়)
  • বেজি দিনে সক্রিয়: দ্বীপে আনা ছোট ভারতীয় বেজিগুলো (Small Indian Mongoose) মূলত দিনের বেলা খাবার খোঁজে 
  • হাবু সাপ নিশাচর: অন্যদিকে, বিষাক্ত হাবু সাপগুলো মূলত রাতের বেলা শিকার করতে বের হয় ।
  • ফলাফল: দিন ও রাতের এই পার্থক্যের কারণে বেজি এবং সাপের মুখোমুখি দেখাই হতো না 
২. সহজ শিকারের সন্ধান
  • দুর্লভ প্রাণী ধ্বংস: সাপ ধরার চেয়ে বেজিগুলো দ্বীপের সহজে পাওয়া যায় এমন নিরীহ প্রাণীদের আক্রমণ করা শুরু করে 
  • আমামি খরগোশ: তারা শুধুমাত্র এই দ্বীপেই পাওয়া যায় এমন বিলুপ্তপ্রায় ‘আমামি খরগোশ’ (Amami Rabbit), স্থানীয় পাখি ও ব্যাঙ খেয়ে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেয় 
৩. অবিশ্বাস্য বংশবৃদ্ধি
  • সংখ্যা বিস্ফোরণ: ১৯৭৯ সালে মাত্র ৩০টি বেজি ছাড়া হয়েছিল 
  • হুমকি: কোনো প্রাকৃতিক শত্রু না থাকায় ২০০০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১০,০০০-এ পৌঁছায় 
জাপানের পাল্টা পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার পর জাপান সরকার তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং ২০০০ সাল থেকে এই বেজিগুলো নির্মূল করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল এক মিশন শুরু করে [১.১.৮, ১.২.৯]। তারা বিশেষ ট্র্যাপ, ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং প্রশিক্ষিত শিকারি কুকুর (Amami Mongoose Busters) ব্যবহার করে দীর্ঘ দুই দশক ধরে বেজি শিকার করে 
অবশেষে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ইউনেস্কো হেরিটেজ তালিকাভুক্ত এই আমামি ওশিমা দ্বীপটি এখন সম্পূর্ণ বেজি-মুক্ত । এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দ্বীপের স্থানীয় পরিবেশ এবং আমামি খরগোশের দল আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে