কুমিল্লায় মাদ্রাসার হুজুরের সাথে পালিয়ে গেলেন সাদিয়া

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,কুমিল্লা প্রতিনিধি, শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩ || ১৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

কুমিল্লায় মাদ্রাসার হুজুরের সাথে পালিয়ে গেলেন সাদিয়া কুমিল্লার শহরে থাকতো সাদিয়া। মাদ্রাসার ছাত্রী, শান্ত-শিষ্ট আর ভদ্র মেয়ে হিসেবে সবাই তাকে চিনত। বাবা দিনমজুর, মা গৃহিণী—অভাবের সংসার হলেও তাদের স্বপ্ন ছিল বড়। তারা চাইত, সাদিয়া পড়াশোনা করে একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কিন্তু কিশোরী বয়সের সেই সংবেদনশীল সময়ে তার জীবনে ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হয়। মাদ্রাসার এক শিক্ষক প্রায়ই তার খোঁজ নিতেন, আলাদা করে পড়াতেন, উৎসাহ দিতেন। শুরুতে বিষয়টা স্বাভাবিক মনে হলেও, সময়ের সাথে সাথে সেই যোগাযোগ একটু বেশি হয়ে যায়—কখনো ক্লাস শেষে কথা, কখনো ফোনে খোঁজখবর, কখনো ছোট ছোট প্রশংসা।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

একদিন বিকেলে শিক্ষক বললেন, “তুমি অন্যদের মতো না, সাদিয়া… তুমি আলাদা।” এই কথাটা সাদিয়ার মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়। সে বুঝতে না পারলেও, তার ভেতরে এক ধরনের আবেগ তৈরি হতে থাকে। ধীরে ধীরে সেই মানুষটার ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকে। এরপর এক রাতে, সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়েছে, সাদিয়া নিজের ঘরে একা বসে ছিল। হঠাৎ ফোনে একটি মেসেজ আসে—“তুমি কি আমার সাথে নতুন জীবন শুরু করতে পারবে?” মেসেজটা পড়ে তার হাত কাঁপতে থাকে। সে দ্বিধায় পড়ে যায়—যাবে, না যাবে না? মায়ের মুখ, বাবার কষ্ট—সবকিছু তার মনে পড়ে। কিন্তু অজানা এক আবেগ তাকে টানছিল। অনেক ভাবনার পর হঠাৎ করেই সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
চুপচাপ দরজা খুলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রাতের নিস্তব্ধতায় কারও নজরে না পড়ে রাস্তায় এসে দেখে, শিক্ষক অপেক্ষা করছেন। “চলো, দেরি করো না”—তিনি বললেন। কোনো কথা না বলে সাদিয়া তার সাথে হাঁটতে শুরু করে। তারা বাসস্ট্যান্ডে যায়, ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু মাঝপথেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। শিক্ষক বলেন, “এখনই দূরে যাওয়া ঠিক হবে না, কিছুদিন লুকিয়ে থাকি।” এরপর তারা শহরের একটি ছোট আবাসিক হোটেলে ওঠে। রুমে ঢোকার পর সাদিয়ার মনে অদ্ভুত এক অস্বস্তি কাজ করতে থাকে। সে বুঝতে শুরু করে—সে হয়তো বড় একটি ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু তখন আর ফিরে যাওয়ার সাহস বা সুযোগ কোনোটা-ই ছিল না।
এদিকে ভোরে ঘুম থেকে উঠে সাদিয়ার মা দেখেন—মেয়ের বিছানা খালি। “সাদিয়া! সাদিয়া!”—ডাকতে ডাকতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবা দিশেহারা হয়ে যান। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী সবাই মিলে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কিন্তু কোথাও কোনো খোঁজ না পেয়ে শেষমেশ থানায় গিয়ে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে তারা ধারণা পায়—মেয়েটি শহরের ভেতরেই আছে। দুই দিন পর খবর আসে, একটি হোটেলে সন্দেহজনক এক জুটি অবস্থান করছে।
পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে দরজায় নক করে—“পুলিশ! দরজা খুলুন!” ভেতরে কিছুক্ষণ নীরবতা, তারপর ধীরে দরজা খোলে। সামনে দাঁড়িয়ে সাদিয়া—মাথা নিচু, চোখে ভয় আর অনুতাপ। পাশে সেই শিক্ষক। মুহূর্তেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। পুলিশ তাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে, আর সাদিয়াকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় বসে সাদিয়া চুপচাপ কাঁদছিল। কিছুক্ষণ পর তার মা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “তুই কেন এমন করলি মা?” সাদিয়া কাঁপা কণ্ঠে উত্তর দেয়, “আমি বুঝতে পারিনি… আমি ভুল করেছি…” তার বাবা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, চোখে জল, কিন্তু মুখে কোনো কথা ছিল না।

Advertisement

পরবর্তীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাদিয়াকে পরিবারে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রথমদিকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও, ধীরে ধীরে আবার পড়াশোনায় মন দেওয়ার চেষ্টা করে। সে বুঝতে পারে—এক মুহূর্তের আবেগ আর অন্ধ বিশ্বাস জীবনকে কত বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এরপর থেকে সে নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করে, নতুনভাবে জীবন শুরু করার সাহস খুঁজে পায়।