ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বরিশালের বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি,শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬ || ফাল্গুন ২৯ ১৪৩২ || ২৪ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট মসজিদের সন্ধান মিলেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। ৫০০ বছরের প্রাচীন মোগল আমলের এই মসজিদে এখনো আজান হয়, আদায় হয় নামা।বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনশি গ্রামে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি উঠেছে। প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এই মসজিদটি মোগল আমলে নির্মিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়তনে ছোট হলেও প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেওয়া হয় মুসল্লির আদায় করেন নামাজ। ইমামসহ একসাথে ৪ জন ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে পারেন এই পাঞ্জেগানা মসজিদে। এর প্রবেশের দরজার উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট। দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট একটি জানালা। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৩ ফুট -প্রস্থ ৪ ফুট উচ্চতা ১০ ফুট। এই মসজিদটিতে একটি গম্বুজও রয়েছে
Advertisement
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ছোট হলেও মসজিদটি তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যিক গর্বের প্রতীক। বিশেষ করে জুমা ও শবে বরাতে আশপাশের মানুষ ভিড় করেন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে ও ইবাদত করতে। মুসল্লী বেশি হলে মসজিদের বাহিরে বসে তারা নামাজ আদায় করে থাকেন।
স্থানীয়দের মতে, মোগল আমলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ছোট মসজিদ নির্মাণের প্রচলন ছিল। মোগল সাম্রাজ্য সময়ে নির্মিত এসব স্থাপনায় সাধারণত পুরু দেয়াল, খিলানাকৃতি দরজা ও গম্বুজের ব্যবহার দেখা যায়।এদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নজরদারি ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করেন, যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। ছোট্ট এই মসজিদটি এখন বাকেরগঞ্জবাসীর গর্বের প্রতীক।
মসজিদটি রক্ষণ বেক্ষণের দায়িত্বে থাকা হায়দার আলী জানান, মসজিদটি মোগল আমলের তৈরি। তবে সঠিক ইতিহাস কারো কাছেই নেই। আমরা
স্থানীয়রা মিলে কোন ভাবে মসজিদটি টিকিয়ে রেখেছি। মসজিদটি সংরক্ষণের সরকার এগিয়ে না আসলে হয়তো ভবিষ্যতে বিলীন হয়ে যাবে। মসজিদটি সংরক্ষণের দাবী জানান তিনি।
হায়দার আলী জনকণ্ঠকে আরো জানান, এখানে আরো ছোট দুটি মসজিদ ছিল। সেই মসজিদ দুইটি ভেঙে স্থানীয় কয়েকজন ইট নিয়ে গিয়ে গোয়াল ঘর নির্মাণ করে। রাতেই তাদের গোয়াল ঘরের সাতটি গরু মারা যায়। এরপর যারা মসজিদ ভেঙ্গে ইট নিয়েছে তাদের অনেকেই পাগল হয়েছেন। অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এরপর থেকেই ছোট্ট এই মসজিদটি আর কেউ ভাঙতে আসেনি। পরবর্তীতে আমরা সবাই মিলে মসজিদটি সংরক্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছি। এই মসজিদটির রহস্য এখনো অনেকের কাছেই অজানা।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরো জানান, মসজিদটির খোঁজখবর নিয়ে সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।



