(ভিডিও)স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের খবর, আসলে কী ঘটেছিল সেখানে

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.ম,ঢাকার ধামরাই ,বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৭ ১৪৩২ :

ঢাকার ধামরাইয়ে অথিতি হয়ে বেড়াতে আসা স্বামীকে মধ্যরাতে গাছে বেঁধে মারধর এবং তার কথিত স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার মতো গুরুতর অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংঘর্ষিক তথ্য পাওয়া গেছে।

 

সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায যোগাযোগ করা হয়েছে। সবার বর্ণনা এক করে দেখা যাচ্ছে, গাছে বাঁধা ও ধর্ষণের নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য কারো কাছে নেই।

Advertisement

আপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি আপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain আথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

 

গত ১৫ জানুয়ারি রাতে ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন এলাকায় শান্তি মনি দাসের বাড়িতে অতিথি দম্পতির ওপর যৌন নিপীড়নের তথ্য তুলে ধরে ঘটনার চার দিন পর ১৯ জানুয়ারি বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে রমরমা খবর প্রকাশ পায়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়।

 

খবরগুলোতে উঠে আসা তথ্যমতে, স্বামীকে গাছে বেঁধে মারধর করে স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। সেখানে যুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তার অসম্পূর্ণ ও ভিত্তিহীন বক্তব্য।

ওই দিন রাতে আসলেই কী ঘটেছিল রামরাবনের শান্তি মনি দাসের বাড়িতে, সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টায় রাইজিংবিডি ডটকমের এই প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে হাজির হন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। সেখানে গিয়ে সংগ্রহ করা তথ্যের সঙ্গে প্রকাশিত খবরগুলোর তথ্যের গরমিল দেখা যাচ্ছে।

 

ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও না থানা, না জনপ্রতিনিধি- সংশ্লিষ্ট নারী কোথাও কোনো অভিযোগ করেননি।

ধামরাইয়ের সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া সড়ক থেকে বাঁ দিকে রাবরাবনের কাঁচা রাস্তা ধরে ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার এগিয়ে গিয়ে পাওয়া গেল এক কক্ষের টিনের চালাঘর। এই ঘরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন শান্তি মনি দাস। থাকার ঘরটির পাশেই রান্নাঘর, পেছনে টিউবওয়েল ও বাথরুম। ঘটনার দিন অতিথি আসায় তাদের জায়গা করে দিয়ে তিনি ও তার মেয়ে ভাইয়ের বাড়িতে চলে যান। পরদিন তিনি ঘটনার কথা জানতে পারেন।

 

শান্তি মনি দাসের কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা হয়। তারা শোনালেন ১৫ জানুয়ারির রাতে তারা যেমনটি দেখেছিলেন, সেই বর্ণনা।

প্রতিবেশীরা জানালেন, ওই দিন মধ্যরাতে শান্তি মনি দাসের ঘরে মারধরের শব্দ পেয়ে পাশের বাড়ির গৃহবধূ শিল্পী মনি দাস সেখানে যান।

 

শিল্পী মনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‍রাত ১টার দিকে শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়ে ওই ঘরে অন্য কাউকে কাউকে দেখতে পাননি। শুধু অতিথি হয়ে আসা নারী ও তার কথিত স্বামীকে ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।

তখন ঘরের ভেতরে থাকা ওই নারী শিল্পী মনিকে বলেন, তার গহনা, টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। কাউকে গাছে বেঁধে রাখা বা ধর্ষণের কোনো চিহ্ন শিল্পী মনি দেখেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনা ৪থেকে ৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটে।

 

তথ্য পেয়ে রাতেই সেখানে যান কৃষ্ণ চন্দ্র মনি দাসের চাচাতো ভাই বিকাশ চন্দ্র মনি দাস। রাইজিংবিডি ডটকমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ওই দিন রাত দেড়টার দিকে জানতে পেরে সেখানে গিয়ে দেখেন, নারী অতিথি কান্নাকাটি করছেন।

বিকাশ চন্দ্রকে ওই নারী তখন বলেন, তাদের প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা, দুটি কানের দুল, একটি নাকফুল ও একটি গলার হার নিয়ে গেছে চোরেরা।

ওই নারী তখন মারধরের কথা বললেও কাউকে গাছে বাঁধা বা অন্য কোনো আলামত সেখানে দেখেননি বিকাশ চন্দ্র।

ঘটনাটি ঘটেছে বালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাসের এলাকায়। তা কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরদিন (১৬ জানুয়ারি) সকালে তিনি লুটপাটের কথা শুনতে পান। তবে কেউ তার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেননি। যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন বা পরে গেছেন, সবাই মালামাল নিয়ে যাওয়ার কথাই বলেছেন; অন্য কিছু নয়।

ঘটনার পর শান্তি মনি দাস বাড়িতে ফিরেছেন। জানতে চাইলে রাইজিংবিডি ডটকমকে তিনি বলেন, তার ভাই কৃষ্ণ চন্দ্রের সহকর্মী পরিচয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারী ওই রাতে তার বাড়িতে ছিলেন। তাদের থাকতে দিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। সকালে ঘটনার কথা শুনতে পান।

কৃষ্ণ চন্দ্রের অতিথি হিসেবে ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজ্জাক ও তার কথিত স্ত্রী রামরাবনে বেড়াতে আসেন। তারা কৃষ্ণ চন্দ্রের বাড়িতেই ওঠেন। নিজের বাড়িতে থাকার জায়গা করতে না পারায় বোনের বাড়িতে অতিথিদের রেখে আসেন।

গ্রামে এখনো এই রেওয়াজ আছে। বাড়িতে অতিথি বেশি হলে, জায়গার সংকুলান না হলে বা অতিথিদের জন্য একটু ভালো থাকার ব্যবস্থা করে দিতে অন্য স্বজন বা প্রতিবেশীর বাড়িতে সেই অতিথিদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ওই রাতে কৃষ্ণ চন্দ্রের অতিথিদের নিজের বাড়িতে রেখে শান্তি মনি দাস তার ভাইয়ের বাড়িতে ঘুমাতে যান।

কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, রাত দেড়টার দিকে রাজ্জাক ফোন করে জানান, কয়েকজন এসে তাদের গহনা, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন এবং তাকে মারধর করেছেন। ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নারী তাকে এমন কোনো ঘটনার কথা বলেননি।

আব্দুর রাজ্জাকও ধর্ষণের বিষয়ে তার কথিত স্ত্রীর মতোই না-সূচক বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রকৃত ঘটনা রাজ্জাকের মুখ থেকে শুনতে যোগাযোগ করা হয় এই ভুক্তভোগীর সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, রাত দেড়টার দিকে পাঁচজন এসে ঘরের দরজা খুলতে বলেন; তারা ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ে তাদের মালামাল নিয়ে যান এবং তাকে মারধর করেন। ধর্ষণ বা স্ত্রীকে বেঁধে রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তবে রাজ্জাক তার কথিত স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেননি এই প্রতিবেদককে।

ঘটনার শেষ অবধি পৌঁছাতে রাজ্জাকের পরিবারের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা বেশ চাঞ্চল্যকর। আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারকে ভালোভাবে চেনে-জানে এমন সূত্র বলেছে, রাজ্জাকের প্রকৃত স্ত্রী ওই রাতে ধামরাইয়ে ছিলেনই না। তার কর্মস্থল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডেও ঘটনার পর থেকে তিনি অনুপস্থিত। অবশেষে তাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, রাজ্জাকের স্ত্রী ধামরাইয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

Advertisement

এ জে সেন্টারে বিত্রুয় প্রতিনিধি আবশ্যক
__________________________
এ সি,ডিসি লাইট,বাথ ব্যাথা,চুলকানীর মলম,ইত্যাদি বিক্রয় করা হয়।
বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাইকেল ও মোবাইল দেওয়া হয়, আলোচনাশাপেক্ষে।
যোগাযোগ করুন-মোবাইল : ০১৯৭৮৬২৪২০৫
মোঃ মতিউর রহমান
এ জে সেন্টার
বারদি সোনারগাঁও বাজার
জেলা- নারায়নগঞ্জ

__________________________________________________

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দলবদ্ধ ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এসআই হারাধন নামে সংবাদমাধ্যমে যে পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, ধামরাই থানায় এই নামে কেউ নেই। কাছাকাছি নামে একজন এসআই কর্মরত আছেন, যার নাম আরাধন চন্দ্র সাহা। তবে এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।

ঢাকার ধামরাইয়ে রাবরাবনে এই বাড়িতে অতিথি হয়ে যাত্রিযাপনের সময় স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের খবর নিয়ে হইচই পড়ে গেলেও মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংঘর্ষিক তথ্য পাওয়া গেছে।