মামলার ভয় দেখিয়ে ঘুষ আদায় — রমনা থানার দুই এসআই আটক (ভিডিও)

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম(টিভি),রাজধানীর রমনা পার্ক প্রতিনিধি, সোমবার   ১২ মে ২০২৫ ||  বৈশাখ ২৯ ১৪৩২ :

রাজধানীর রমনা থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) বিরুদ্ধে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয়ভীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দুই এসআই হলেন — এসআই নাহিদ ও এসআই মনজুরুল ইসলাম সজীব। তারা মিরপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহেলকে এক সাজানো ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আদায় করেন।

Advertisement

৫ এপ্রিল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের একটি কর্মসূচি শেষ করে সোহেল রমনা পার্কের সামনে দিয়ে হাঁটছিলেন। সেই সময় এক অচেনা নারী নিজেকে অসহায় বলে দাবি করে তার কাছে সাহায্য চায়। সোহেল সাহায্যের জন্য আগ্রহ দেখানো মাত্রই ওই নারী চিৎকার শুরু করে। এতে আশেপাশের মানুষ জড়ো হয় এবং তখনই রমনা থানার এসআই নাহিদ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন।

নারীর অভিযোগে সোহেলকে “শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টা” মামলার আসামি বানিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement

থানায় নিয়ে গিয়ে এসআই নাহিদ ও এসআই মনজুরুল ইসলাম সজীব, সোহেলকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। সোহেলের পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় তার স্ত্রী মনিকা আক্তার অনেক কষ্টে ধার করে প্রথমে ৫০০ টাকা দেন। কিন্তু আরও ৫ হাজার টাকা দিতে না পারায় তিনি বাধ্য হয়ে নিজের গলার স্বর্ণের চেইন দিয়ে স্বামীকে মুক্ত করেন।

পরে এনটিভির সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি ফাঁস হয়। তারা ছদ্মবেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআইদের টাকা ও স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার মুহূর্ত ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, এসআই মনজুর স্বর্ণের চেইন হাতে নিচ্ছেন এবং তা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি থেকে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, “যদি কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, আমরা প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করি। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Advertisement

ভুক্তভোগী সোহেল বলেন, “আমি একজন সাধারণ দোকানদার। আমার জীবনে এমন অন্যায় আগে কখনো হয়নি। স্ত্রীকে নিয়ে অপমানিত হতে হয়েছে শুধু পুলিশি দুর্নীতির কারণে।”