ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি,মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ভাদ্র ২৪ ১৪৩৩ || ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও তিনি কীভাবে বের হয়ে গেলেন, তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের যত বড় পরিকল্পনাই নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হবে।”
বেনজীর আহমদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বেনজীর আহমদকে আমরা এরেস্ট করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এখন দেখলাম, হাতের গ্রিফটের ভেতর থেকে কোন ফাঁক দিয়ে যেন উনি চলে গেলেন। আমরা যদি সক্ষম হয়ে থাকি, তাহলে তিনি বের হয়ে গেলেন কীভাবে? এই খাঁচার পাখি তো বের হওয়ার কথা না।”
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বেশির ভাগই ভবিষ্যতের বিষয়। এখনকার সমস্যাগুলোর সমাধান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “এই সংসদেই বলা হয়েছিল, ভূতুড়ে বিল যেটা এসেছে, গণশুনানি করে তার সমাধান হবে। কোনো সমাধান হয়নি। এটা কন্টিনিউ করছে। এই জায়গাগুলোকে যদি আমরা নিশ্চিত না করতে পারি, জবাবদিহিতার জায়গাটা যদি আমরা স্বচ্ছ না করতে পারি, তাহলে আমাদের প্ল্যান যত সুন্দর, যত বড় হোক, সবগুলা কিন্তু ব্যর্থ হবে।”
সাবেক সরকারের পোষ্যদের নতুন করে সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা নতুন করে আবার কোনো পোষ্যের হাতে পড়তে চাই না। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে, ডিরেক্ট-ইনডিরেক্ট কোনোভাবেই না, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কোনোভাবেই না। এই দুষ্টচক্র থেকে জাতি যদি বের হতে না পারে, এ জাতির কোনো নিস্তার নাই, কোনো মুক্তি নাই।”
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কেন চাঁদাবাজদেরকে বলে দিচ্ছি না যে, তোমাদের কোনো স্পেস আর সমাজে নাই। আমরা কেন দুর্নীতিবাজদেরকে ক্লিয়ার মেসেজ দিতে পারছি না যে, অতীতে যেটা হয়েছে সেটা পরে চিন্তা করা হবে, কিন্তু এখন থেকে ফ্রেশ স্টার্ট।”
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের কোথাও কোথাও মানুষ ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার সঙ্গে এই ঘাটতির হিসাব মেলে না।”
তিনি বলেন, “প্রথমে সাহস করে আমাদের সত্যটাই মেনে নেওয়া উচিত যে, এটি আমাদের সমস্যা। কেন এই সমস্যা, এটা জাতি জানে। আরও ক্লিয়ার করে বলা যায়, অসুবিধা নাই। এরপরে আমাদের প্ল্যানটা আমরা জাতিকে দেই।”
সরকারকে সংকটের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরে সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তিন মাসে কী করা হবে, ছয় মাসে কী করা হবে, এক বছরে, দুই বছরে ও পাঁচ বছরে কী করা হবে তা স্পষ্ট করা দরকার। আমাদের যা আছে, যা নাই, জাতিকে আমরা বলে দেই। এইটা আমাদের আছে, এটুকু আমাদের নাই। নাই যেটা, এটা আমাদের আহরণ করতে এটুকু সময় লাগবে। আমাদেরকে সময় দেন। আমরা ধাপে ধাপে এটা উন্নয়ন করব।”
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে সরকার চাইলে জামায়াতের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, “যদি সরকার আমাদের সহযোগিতা চান, তাহলে আমরা আমাদের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমকে সরকারের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে পারি। একসঙ্গে তারা কাজ করবেন, দেশের জন্য কাজ করবেন, মানুষের জন্য কাজ করবেন।”
এ ক্ষেত্রে কৃতিত্ব নেওয়ার কোনো আগ্রহ জামায়াতের নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো ক্রেডিট নিতে হয়, পুরাটা সরকার নিয়ে নেন, কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু আমরা চাই যে সমস্যার সমাধান হোক। আমরা কোনো ক্রেডিট ক্লেইমার হতে চাই না।”
সংকট মোকাবিলায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স বা বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এর জন্য একটা ইফেক্টিভ সেল করা দরকার। টাস্কফোর্স বলেন, সেল বলেন, স্পেশাল কমিটি বলেন হোয়াটএভার মেবি। এটা কোনো শর্ট টার্মের জন্য হবে না। দরকার হয় এটা পারসিস্ট করবে।”
সরকার প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার অবস্থান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার নিতে না চাইলে একাও যদি সমাধান করেন, আমরা সমাধান চাই। সমাধানের জন্য আমরা অংশীদার হতে পারলে খুশি হব, কৃতজ্ঞ হব।”
-
Advertisement

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, “একটা দেশ যখন পাওয়ার ক্রাইসিসে ভুগবে, তখন এই দেশটা পাওয়ারলেস হয়ে যাবে। আমরা চাই না আমাদের জাতি পাওয়ারলেস হোক। আমরা চাই আমাদের জাতি পাওয়ারফুল হবে।”

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান


