ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বরিশালের গৌরনদী প্রতিনিধি, সোমবার,০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২৩ ভাদ্র ১৪৩৩২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:
নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপর এক তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম ধাপ স্তন অপারেশন করেছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামের এক তরুণী। অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের মেয়ে।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
ঢাকার পান্থপথ গ্রীণ রোডের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকালে অপারেশনের পর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লিজার মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন বিকালে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে আসলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যার মধ্যেই লিজাকে দাফন করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের মতো আচরণ করতেন এবং চুলও ছেলেদের মতো করে কাটাতেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে এসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন।
জেনিফা জানান, তারা একে অপরের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং একসঙ্গে থাকতেন। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসাও নিতেন। তার ভাষ্য, স্তন অপারেশনের জন্য লিজার মা, বাবা ও বোন মিলে দেড় লাখ টাকা দেন। ওই অর্থ দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে লিজার ‘স্ত্রী’ হিসেবে জেনিফা স্বাক্ষর করেন। তার দাবি, লিজার মা-বাবার সম্মতি নিয়েই তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করেছেন।
তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, জেনিফা সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন এবং তার স্বাক্ষরের ভিত্তিতে অপারেশন হবে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি লিজাকে ‘সরফরাজ’ নামে হাসপাতালে ভর্তি করার বিষয়টিও তিনি মৃত্যুর দিন জানতে পারেন। তিনি বলেন, অপারেশন করে পুরুষ হওয়ার পর জেনিফাকে বিয়ে করবেন—এমন কথা তিনি লিজার মায়ের কাছ থেকে শুনেছিলেন।
লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। তাঁকে দুইবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসারই টেকেনি। ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা বা সংসার করার বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেনিফা লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এ কারণে মেয়ের অপারেশনের বিষয়টি তারা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।
ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে দেখা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর লিজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ ‘পুরুষ’ উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যু সনদে দেওয়া হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের অ্যাডমিন কর্মকর্তা পরিচয় দেন। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি হাসপাতালের জিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রোগী যে চিকিৎসকের অধীনে ভর্তি হয়েছিলেন, তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে ফোন করবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
-
Advertisement

অপারেশনের পর অল্প সময়ের মধ্যে লিজার মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা-প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে হাসপাতালের অনুমোদন ও চিকিৎসাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।

ছবি- বাংলাপোস্ট



