(ভিডিও)সাগর-রুনী হত্যা তদন্তে নতুন মোড় রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততা নিয়ে তোলপাড়

SHARE

 

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি,শুক্রবার,০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৯ ভাদ্র ১৪৩৩২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম একটি মামলার তদন্তে কল রেকর্ড পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মী রোকেয়া প্রাচীর যোগাযোগের সম্ভাব্য তথ্য খুঁজে পান। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাবেক এক সামরিক কর্মকর্তা (গুম-খুনের মামলায় গ্রেফতার) এবং অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে, ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, সামরিক কর্মকর্তার নির্দেশে তার একজন সহকারী (সার্জেন্ট) রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি সিডি (ডিস্ক) সংগ্রহ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ ডিস্কগুলোয় বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি বা তথ্য ছিল। ওই সামরিক কর্মকর্তা এবং রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই সিডি বা তাদের যোগাযোগ বা সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর সাগর-রুনীর দুটি ল্যাপটপ এবং সাগরের মোবাইল ফোন গায়েব হয়ে যায়, যা আজও উদ্ধার হয়নি। তবে রুনীর ফোন ও বাসার মূল্যবান স্বর্ণালংকার অক্ষত অবস্থায় ছিল। এ বিষয়গুলোও নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তানভীর হাসান জোহা একজন বাংলাদেশি সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সোমবার যুগান্তরকে বলেন, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একজন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ যোগাযোগের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়া যায়। ওনার নাম রোকেয়া প্রাচী। পিবিআই থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমি যা পেয়েছি, তা ওনাদের দিয়ে দেব। ওনারা তদন্ত করে বের করুক। আমার কাছে তথ্যপ্রমাণ আছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মুক্তি চেয়েছিলেন রোকেয়া। সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রোকেয়া প্রাচীর কী ধরনের সম্পর্ক ছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সুনির্দিষ্ট করে জানি না, এটা সাক্ষী বলবে। ওই সাক্ষী রোকেরা প্রাচীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। রোকেয়া প্রাচী ঘটনাটি জানতেন। তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, রুনীর পরিবার বলেছে, তারা এ ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন। সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড একটি পৃথক হত্যা মামলা। তাই এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

গত ২২ জুন গুমের মামলায় ট্রাইব্যুনালে পঞ্চম সাক্ষী হিসাবে সাক্ষ্য দেন সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। সাক্ষী ইমরুল কায়েস দীর্ঘ জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের গুম-খুনের বীভৎস বর্ণনা দেন। এ সময় তিনি সেনা পোশাকেই ছিলেন। ইমরুল কায়েস বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসাবে কর্মরত। তিনি একসময় জিয়াউল আহসানের রানার ছিলেন।

  • Advertisement

এর আগে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, অন্য একটি মামলার তদন্তে কল ডিটেইল রেকর্ড পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একজন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ যোগাযোগের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, পাওয়া তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সাগর-রুনী হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্তে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্য পিবিআইকে দেওয়া হবে।