(ভিডিও)কেয়া থেকে কাবির: নতুন পরিচয়ে দেশসেবার স্বপ্ন

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,গাজীপুরের কালিয়াকৈ প্রতিনিধি, রোববার,১৬ আগস্ট ২০২৬,১ ভাদ্র ১৪৩৩০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা গ্রাম। অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল সকালটা। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ওই গ্রামের একটি বাড়িতে বদলে যায় দৃশ্যপট। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে থাকেন এক শিক্ষার্থীকে দেখতে, যাকে এতদিন সবাই চিনতেন ‘কেয়া আক্তার‘ নামে। এখন তার নাম আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।

Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

কাবিরকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের কারণও আছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ‘কেয়া আক্তার’ নামেই অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৫৬ পেয়েছে। ফল প্রকাশের পর সাফল্যের খবরের পাশাপাশি তার শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর পরেই বাড়িতে শুরু হয় কৌতূহলী মানুষের আনাগোনা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাবিরের আগের নাম ছিল কেয়া আক্তার। বয়স ১৬ বছর। তার বাবা কাইয়ুম দেওয়ান ও মা কণিকা ইসলাম। তাদের আদি বাড়ি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে হলেও বর্তমানে পরিবারটি কালিয়াকৈরের মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় বসবাস করছে।

 

কাবির স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছে। সেখান থেকেই চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের দিকে কাবিরের শরীরে ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও পরিবারের পর্যবেক্ষণের পর তারা বিষয়টিকে শারীরিক ও হরমোনগত পরিবর্তন হিসেবে দেখেন।

কাবিরের মা কণিকা ইসলাম বলেন, “কেয়ার বিয়ের বিষয়ে কথা উঠলেই সে অস্বস্তি প্রকাশ করত এবং রেগে যেত। পরে তার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার পর বিষয়টি পরিবারের কাছে পরিষ্কার হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর শরীরে পরিবর্তনগুলো আরো স্পষ্ট হতে থাকে। একপর্যায়ে পরিবারের সিদ্ধান্তে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে নতুন নাম রাখা হয় আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।”

 

কাবির নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জানায়, ২০২৫ সাল থেকেই সে শরীরে পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করে। আগে নিয়মিত মাসিক হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে শরীরে পুরুষ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেতে থাকে। বিষয়টিকে সে একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে স্বাভাবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেই দেখছে।

 

নতুন পরিচয়ে সামনে আসা কাবিরের চোখে এখন অন্য স্বপ্ন। পড়াশোনা থামিয়ে দিতে চায় না সে। ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করে পরিবার ও দেশের সেবা করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে।

কাবিরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, কেয়া আক্তার নামেই সে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলও করেছে। পরে তার শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কাবিরের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করা হয়েছে।

এদিকে, কাবিরকে একনজর দেখতে স্থানীয়দের অনেকে বাড়িতে ভিড় করায় বিষয়টি নিয়ে পরিবার কিছুটা বিব্রত। তাদের অনুরোধ, কৌতূহল থেকে যেন কেউ তার ব্যক্তিগত পরিসরে অযাচিতভাবে প্রবেশ না করেন। একজন শিক্ষার্থীর পরিচয় পরিবর্তনের এই ঘটনাকে গুজব, হাসি-তামাশা কিংবা অতি কৌতূহলের বিষয় না বানিয়ে মানবিকতা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছে পরিবার।

 

একসময় যে নামটি দিয়ে বিদ্যালয়ের খাতায়, পরীক্ষার কাগজে এবং পরিচিত মানুষের কাছে সে পরিচিত ছিল, সেই ‘কেয়া আক্তার‘ নাম এখন তার অতীতের একটি অধ্যায়। সামনে তার নতুন পরিচয় আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।

Advertisement

এসএসসির ফল হাতে নিয়ে নতুন পরিচয়ে পথচলা শুরু করা কাবিরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় বিষয়—নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়া। সেই পথচলায় পরিবারের প্রত্যাশা, সমাজের সহমর্মিতা এবং মানুষের সংবেদনশীল আচরণই হতে পারে তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

শারীরিক পরিবর্তনে নতুন পরিচয়ে সামনে আসা কাবিরের চোখে এখন অন্য স্বপ্ন