ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,ক্রাইম প্রতিনিধি,সোমবার,২০ জুলাই ২০২৬,৪ শ্রাবণ ১৪৩৩০৫ সফর ১৪৪৮ :
বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির আটতলা ওই বাড়িতে এই অভিযানে নামে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির ওই বাড়িটিতে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি আদালত বরখাস্ত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ক্রোক করা (অ্যাটাচড) স্থাবর সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণে বিভিন্ন জেলা প্রশাসক এবং গণপূর্ত বিভাগকে ‘রিসিভার’ (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামির ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন: আইনমন্ত্রী
![]()
২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে বরখাস্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত। এরপর থেকে কারাগারে আছেন জিয়াউল আহসান।
এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই সময় অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন জিয়াউল আহসান। সেই সঙ্গে অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করেছেন। স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা ও যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে এসব অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। সবমিলিয়ে জিয়াউল আহসানের নামে থাকা ৮টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।


