(ভিডিও)প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ না দেওয়ায় যুবদল নেতার মারধর, চাঁদা দাবি

SHARE

https://www.facebook.com/share/v/1KdtoF1TBX/

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,গাজীপুরের শ্রীপুর প্রতিনিধি, শুক্রবার,০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৯ ভাদ্র ১৪৩৩২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

প্রেসক্রিপশন ছাড়া হৃদরোগের ওষুধ দিতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা মো. ফজলুল হক রোমান ওরফে ‘ভাইরাস রোমানের’ বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. আতিকুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।

 

আটকে রেখে তাঁকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর দুই উরুতে জখম হয়েছে। এ সময় তাঁর কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকাও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুর উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিকাল ৩টার দিকে আতিকুল ইসলামকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। একই দিন শ্রীপুর মডেল থানায় ফজলুল হক রোমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন আতিকুল ইসলাম।

অভিযুক্ত মো. ফজলুল হক রোমান উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আলিম উদিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য এবং মাওনা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

 

আতিকুল ইসলামের ভাষ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে এক নারী তার ফার্মেসিতে গিয়ে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই হৃদরোগের ওষুধ চান। প্রেসক্রিপশন না থাকায় তিনি ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিষয়টি ফজলুল হক রোমানকে জানানো হলে তিনি ক্ষুব্ধ হন।

 

আতিকুল ইসলামের দাবি, এরপর ফজলুল হক রোমানের ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ না দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ না দেওয়াটাই আমার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে এখানে ব্যবসা করতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাঁদা দাবি করে রোমান।’

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রাখার সময় কয়েক দফায় ভুক্তভোগীকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হলে তার দুই উরুতে জখম হয়। এ সময় ব্যবসার মূলধন হিসেবে সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

 

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফজলুল হক রোমানের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন সময় হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশের পর ফজলুল হক রোমানের ব্যবহৃত কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে থাকা কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে মো. ফজলুল হক রোমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • Advertisement

 

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি এবং ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. আতিকুল ইসলাম