ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক সবার দেশ পত্রিকার সৌজন্যে,মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২৬ || চৈত্র ১৮ ১৪৩২ || ১১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল আগ্রাসন চালালে রাশিয়ার চেচেন বাহিনী ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে পারে—এমন দাবি সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলের প্রধান রমজান কাদিরভ-এর অনুগত সামরিক ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি থাকার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে, তবে তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে লড়াইয়ে যোগ দেবে বলে জানানো হয়েছে।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাদিরভপন্থী এ বাহিনী, যাদের ‘কাদিরোভৎসি’ নামে পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে একটি ধর্মীয় যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং ‘ভালো ও মন্দের লড়াই’, যেখানে ইরানকে রক্ষার জন্য জিহাদে অংশ নেয়া ন্যায্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে এখন পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত ফল না আসায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, এ সংঘাত শুরু হয় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই। এ সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর জবাবে ইরানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ইতোমধ্যে ৮৬ দফা প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালনা করেছে।
সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার মতো একটি নতুন অভিযোগও সামনে এসেছে। ইরান দাবি করেছে, ইউক্রেন এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সহায়তা করছে। জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে দেশটির প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, কিয়েভ ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে এ অভিযানে সহযোগিতা করতে।
যদিও চেচেন বাহিনীর সম্ভাব্য মোতায়েন বা ইউক্রেনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও বিশ্লেষকরা বলছেন—এ ধরনের দাবি পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৃহত্তর বৈশ্বিক শক্তির মুখোমুখি অবস্থানে রূপ নিতে পারে।
চেচেন বাহিনী মূলত রাশিয়ার ফেডারেল কাঠামোর আওতায় পরিচালিত বিশেষ সামরিক ইউনিট, যারা কখনও রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে, আবার কখনও চেচনিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত থাকে। ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাতে তাদের উপস্থিতি আগেই লক্ষ্য করা গেছে।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যেকোনও ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে একটি বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত


