(ভিডিও)বান্দরবানে বাড়ছে হোটেল-রিসোর্ট, ছাড়পত্রের তোয়াক্কা করছে না কেউ

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বান্দরবান প্রতিনিধি,রোববার,২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১২ আশ্বিন ১৪৩৩১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ :

মেঘ-পাহাড় আর সবুজের টানে বান্দরবানে প্রতিবছর বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। পর্যটকদের রাতযাপনে সুবিধার্থে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। তবে এসব স্থাপনার অধিকাংশেরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই।

 

জেলা প্রশাসনের হিসাবে, বর্তমানে জেলায় ৭৯টি হোটেল ও রিসোর্ট অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েছে মাত্র ৩২টি। তবে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস কোনো সংস্থার কাছেই জেলার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই।

 

হোটেল-রিসোর্ট ও কটেজ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, জেলার সাত উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েক হাজার হোটেল রিসোর্ট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে লামার মিরিঞ্জা এলাকায়।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, উপজেলায় মোট কতটি রিসোর্ট রয়েছে, তার সঠিক হিসাব নেই। তবে রিসোর্ট মালিকদের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 

মিরিঞ্জা ভ্যালী রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানের দাবি, মিরিঞ্জা এলাকায় প্রায় ৮৯টি রিসোর্ট রয়েছে। এসব রিসোর্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন বা ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

 

লামা রিসোর্ট মালিক সমিতির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন রফিক বলেন, উপজেলায় মোট কতটি রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে, তার সঠিক হিসাব সমিতির কাছেও নেই। অনেকে পাহাড়ে জুমঘর তৈরি করে সেটিকে রিসোর্টের নামে ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, রিসোর্ট নির্মাণের সময় বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা, গাছপালা নিধন এবং ঝিরি-ছড়া ভরাট করা হচ্ছে। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ঝিরি-ছড়া ও নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে দূষিত হচ্ছে পাহাড়ি জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ।

 

লামার ইয়াংছা পাড়ার বাসিন্দা মংচিং মার্মা বলেন, রিসোর্টের বর্জ্য ঝিরি ও ছড়ায় গিয়ে পড়ায় তাদের একমাত্র পানির উৎস দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে বাধ্য হয়ে সেই পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান চ্যাপ্টারের চেয়ারপারসন জুয়ামলিয়ান আমলাই বলেন, গত কয়েক বছরে বড় বড় পাহাড়ের চূড়ায় একের পর এক ‘ইকো’ নামের রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও অনেকেরই তা নেই। এভাবে চলতে থাকলে কটেজের নামে পাহাড়ি এলাকা অপরিকল্পিতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করা দরকার।

পর্যটন বিকাশের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি হলেও অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা ও গাছপালা নিধনের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারাতেও।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন বিকাশের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি হলেও অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা ও গাছপালা নিধনের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারাতেও।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব বলেন, জেলায় ৩২টি রিসোর্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েছে। ২০টি বা তার বেশি কক্ষের হোটেল বা রিসোর্টের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর দিয়ে থাকে। তবে আইনগত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে ছোট রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল মান্নান আনসারী বলেন, জেলায় ঠিক কয়টি হোটেল রিসোর্ট রয়েছে সঠিক তথ্য নেই। তবে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ৬০টির মতো হোটেল-রিসোর্ট নবায়ন করেছে।

তিনি আরো বলেন, রিসোর্ট ও কটেজগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কাঠ, বাঁশ, ছন ও টিন দিয়ে নির্মিত অনেক কটেজে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ যান চলাচলের উপযোগী সড়কেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনো স্থাপনায় আগুন লাগলে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে বলেও তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, বান্দরবানে পর্যটন করপোরেশন বা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কোনো স্থানীয় কার্যালয় নেই। হোটেল ও রিসোর্ট-সংক্রান্ত বিষয় জেলা প্রশাসন ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ দেখভাল করে।

  • Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

তিনি বলেন, জেলায় বর্তমানে ৭৯টি হোটেল-রিসোর্ট অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া আরও ২০ থেকে ৩০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার জন্য তাদের অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।