
ফরহাদ হোসেনছবি: সংগৃহীত
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর প্রতিনিধি,মঙ্গলবার,১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮:
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে সেলুনে চুল কাটাচ্ছিলেন ফরহাদ হোসেন (৩০)। হঠাৎ সেখানে ঢুকে কয়েকজন তাঁকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। এরপর চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ফরহাদকে গুরুতর আহত করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে আনার পর বিকেল চারটার দিকে মারা যান ফরহাদ। তিনি কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার মেম্বার গলিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে।
ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের দাবি, ফরহাদ মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। সেখানে কিশোর গ্যাং সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ সাত–আটজন তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে। ব্যবসা করতে হলে এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদা টাকা দাবি করেছিল তারা। ফরহাদ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের মধ্যে বিরোধ হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, এই বিরোধের জেরে আজ দুপুরে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তিনজন সেলুনটিতে ঢোকে। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় ক্যাপ ছিল। সেলুনে ঢোকার আগেই প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে সেলুনের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে একজন। গুলির ভয়ে সেলুনের ভেতরে থাকা অন্য ব্যক্তিরা দৌড়ে বাইরে বের হয়ে আসেন। এরপর বাকি দুজন কোমর থেকে ধারালো চাপাতি বের করে সেলুনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ফরহাদ লুঙ্গি পরা অবস্থায় খালি গায়ে সেলুনের বাইরে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পেছন থেকে একজন তাঁর লুঙ্গি টেনে ধরে রাখায় তিনি পালাতে পারেননি। এ সময় আরেকজন তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে গুরুতর জখম অবস্থায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
মোহাম্মদপুর থানা–পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত ফরহাদ নিজেও কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপে’র সদস্য। মোহাম্মদপুরের বোটঘাট ও ময়ূরভিলা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত দুই গ্রুপই মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। পূর্ববিরোধের জেরে তারা আরশিনগরে এসে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছেন তাঁরা।
-
Advertisement

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ফরহাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।




