
দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) প্রতিনিধি,শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬ || শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩ || ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:
দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দেওয়ায় মিথ্যা ডাকাতি মামলা, মামলায় জড়ানো এবং নিরীহ ব্যক্তিকে থানায় ডেকে নিয়ে অপহরণ মামলায় ফাঁসানোর মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ তাদের আটক করে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেছে। টাকা দিতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে একজন ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগের বিষয়ে হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, “পুলিশ কখনো মিথ্যা মামলা দিয়ে জনসাধারণকে হয়রানি করে না। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে অবশ্যই তারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের মামলার তদন্ত আরো করা হবে, পরে বিষয়গুলো আপনারা ক্লিয়ার জানতে পারবেন।”
হিলি পৌরসভার উত্তর বাসুদেবপুর এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী দুলালী বেগম অভিযোগ করে জানান, গত ১৮ জুন রাতে তার বাড়ির পাশে মারামারির ঘটনায় কোরবান নামে একজনকে আটক করতে হাকিমপুর থানার পুলিশ যায়। সেখানে তাকে না পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তার ছেলে অন্তরের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওসি জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ তার ছেলেকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যায়।
দুলালী বেগম জানান, ছেলে কোনো অপরাধ করেনি জানিয়ে তাকে ছাড়ানোর জন্য থানায় গিয়ে ওসির কাছে অনুরোধ করেন। এ সময় তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বামীহারা এই নারী টাকা দিতে পারেননি। পরদিন সকালে তার ছেলেকে ডাকাতি মামলা দিয়ে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে ভুক্তভোগী এক নারীর দেওয়া লিখিত অভিযোগ
এই নারী বলেন, “আমার স্বামী নেই। আমি বিধবা নারী। এত টাকা কোথায় পাব? টাকা দিতে না পারায় আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের বুলবুল হোসেনের স্ত্রী মুন্নী আক্তার অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুলাই দুপুরে হাকিমপুর থেকে অটোযোগে বাড়ি ফেরার পথে সাদা পোশাকে দুই পুলিশ সদস্য তাকে আটক করে হাকিমপুর থানা এলাকায় নিয়ে যান। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাঁজা উদ্ধার করে।
মুন্নীর অভিযোগ, ওই অভিযানের পর তার সামনে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে থানায় নিয়ে গাঁজা দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় এসআই ফারুক, এসআই দিপু ও এএসআই মোসলেম তার কাছে টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুন্নী জানান, তিনি অপরাধী নন এবং টাকা দেওয়ার সামর্থ্যও তার নেই। পরে তাকে দিয়ে ওসির কাছে ২৫ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার কথা বলানো হয়। পরদিন সকালে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আদালতে পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওসি তাকে একজন মাদক কারবারির সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে এক সাংবাদিকের কাছে মাদকসহ স্বামী-স্ত্রী আটকের তথ্য দেওয়া হয়। পরে জামিনে বাড়ি ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার স্বামীও বিষয়টি নিয়ে ভুল ধারণা করে তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন।
মুন্নী বলেন, “পুলিশের কারণে আমি আজ নিঃস্ব। আমার স্বামীও আমার কাছে আসছেন না, কোনো খরচ দিচ্ছেন না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
বিরামপুরের ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন অভিযোগ করেন, গত ১ জুলাই দুপুরে হিলি চারমাথা এলাকার একটি এজেন্ট ব্যাংকে টাকা তুলতে যান তিনি। ব্যাংকে টাকা না থাকায় সেখানে আরো কয়েকজনের সঙ্গে বসে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ এসে প্রথমে একজনকে এবং পরে তাকেসহ আরো একজনকে থানায় যেতে বলেন।
মুকুলের দাবি, কোনো কারণ না জানিয়ে তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। পরদিন সকালে তাকে ও আরো একজনকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার বক্তব্য না শুনে এভাবে মামলা দেওয়া পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মনে হয়েছে। পরে আমার ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। কয়েকদিন পর জামিনে বের হলেও এখন মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না। আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
হিলির ইটা বাউনা এলাকার আতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, তার গ্রামে একটি খড়ের পালায় আগুন লাগলে তিনি পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তাকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে জানালেও তাকে অপমান-অপদস্ত করা হয়। তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতিয়ার।
হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, “আমার কাছে এখনো কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেনি। যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কোনো নির্দেশ দেন তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”
-
Advertisement

অভিযোগের বিষয়ে দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, “দুলালী নামের একজনের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে হাকিমপুর সার্কেলের কাছে বিষয়টি অবগত করতে বলা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগকারীদের সঙ্গেও কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন

