(ভিডিও) রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, মঙ্গলবার   ২১ জুলাই ২০২৬ ||  শ্রাবণ ৬ ১৪৩৩ || ৭ সফর ১৪৪৮ হিজরি :

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে আটক করা হয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। মঙ্গলবার তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি অনলাইন।

 

 

এর আগে বিকেলে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা করেছিলেন। কংগ্রেসের এই বিক্ষোভে অপ্রস্তুত হয়ে পড়া দিল্লি পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠায় এবং বিক্ষোভকারীদের আটক শুরু করে। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং পরে বিক্ষোভস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই বিক্ষোভটি ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। রাস্তার উপর বসে সরতে অস্বীকার করলে রাহুল গান্ধীকে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য ঘিরে ধরেন। অবশেষে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার নাক দিয়ে রক্ত ​​ঝরতে দেখা যায়।

কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য নাসির হুসেন বলেছেন, “তারা চেয়েছিল,আমরা প্রতিবাদ প্রত্যাহার করি এবং আমাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় আমরা রাজি হইনি। আমরা চাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করুন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে  নিয়ে সংসদে আলোচনা করুন। আরও সাংসদ, আরও কংগ্রেস কর্মী এবং আরও সাধারণ মানুষ আমাদের প্রতিবাদে যোগ দেবেন।”

 

কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পবন খেরা রাহুলকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর বলেছেন,“দিল্লি পুলিশ আমাদের নেতাদের আটক করেছে। রাহুল, প্রিয়াঙ্কা আমাদের সব নেতাদের। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা পুলিশ আমাদের জানাচ্ছে না।”

 

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সোমাবার ভারতের সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তীব্র বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী দিল্লির যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ‘সংসদ চলো’ মিছিলে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, যার ফলে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।

 

তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সরকারি সম্পত্তিতে। আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।