
নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজে। ছবি:ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,নাটোরের লালপুর প্রতিনিধি,শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২৬ || আষাঢ় ১৯ ১৪৩৩ || ১৭ মহররম ১৪৪৮ হিজরি :
নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ইসরাত জাহান সূচিসহ ৮জন শিক্ষার্থীর জন্য অবশেষে সুখবর এসেছে। শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে তাদের ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আগামী পরীক্ষাগুলো থেকে তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মামুদুর রহমান।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে অভিযোগ ওঠে, কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার আটজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা যথাযথভাবে জমা দেননি। ফলে প্রবেশপত্র না পেয়ে তারা চলতি বছরের চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে শুক্রবার (৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে একটি টেলি কনফারেন্সে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মামুদুর রহমান এবং চ্যানেল 24-এর জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ সরকারের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি যাতে না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন।
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পর শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ইসরাত জাহান সূচিসহ আটজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়। ফলে তারা আগামী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আশার আলো দেখেছেন আটজন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। তারা শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা বোর্ড, প্রশাসন, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি জানান, ‘আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। আমার শিক্ষক, শিক্ষামন্ত্রী, সাংবাদিকসহ যারা আমার পাশে ছিলেন এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। শুধু আমি নই, আমার আরও সাতজন সহপাঠীও এখন পরীক্ষা দিতে পারবে। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’
ইসরাতের বাবা ইমানুল হক জানান, আমার মেয়েসহ আটজন শিক্ষার্থী আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে, এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না। আমরা শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষক, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তে কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে আটক করে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
-
Advertisement

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আশা প্রকাশ করছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার না হয়।




