ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,প্রতিনিধি,শনিবার ৩০ মে ২০২৬ || জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি :
প্রায় ২০০ বছর আগে অসাবধানতা থেকে সৌভাগ্যের দরজা খুলে যায় মানবজাতির। বিজ্ঞানীর একটি ভুল তৈরি করে দেয় আলো ও তাপ তৈরির সহজ একটি পদ্ধতি। বর্তমানে হরহামেশাই যে দিয়াশলাই বা ম্যাচ আমরা ব্যবহার করে থাকি তা ঠিক কীভাবে আবিষ্কার হয়েছিল সে চমকপ্রদ ঘটনাটি কি আপনি জানেন?
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইংরেজ রসায়নবিদ জন ওয়াকারের এক ভুল থেকে আবিষ্কার হয়েছিল দিয়াশলাই। তবে বর্তমান দিয়াশলাইয়ের রূপ পেতে আরও কিছু বিজ্ঞানী আবিষ্কারে এগিয়ে আসেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রস্তর যুগে পাথরে পাথরে ঘষে আগুন জ্বালানোর কৌশল আবিষ্কার করা হয়েছিল। সে কঠিন কৌশল এক নিমিষেই সহজ করে দিয়েছে আজকের দিয়াশলাই।
জানা যায়, ১৮২৬ সালে বিস্ফোরক তৈরির জন্য রাসায়নিকের মিশ্রণ তৈরি করছিলেন জন ওয়াকার। অসাবধানতা বশত সেই মিশ্রণের একটি অংশ লেগে যায় একটি ছোট্ট কাঠিতে। কাঠিতে লেগে থাকা মিশ্রণটি শুকিয়ে যায়।
একদিন ল্যাবে ওয়াকার বিস্ফোরক তৈরির জন্য রাসায়নিকের মিশ্রণ তৈরি করছিলেন তখন হঠাৎ সেই কাঠিটি পরে গিয়ে একটি পাথরের ওপর পড়ে যায়। এ সময় পাথরের সঙ্গে কাঠিতে লেগে থাকা মিশ্রণ ঘষা লাগতেই আগুন জ্বলে ওঠে।
এই অভিজ্ঞতা থেকে ওয়াকার ব্যবহারিক সম্ভাবনা বুঝতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই কাজ করতে শুরু করে দেন। ব্যবহারিকভাবে প্রয়োগে তিনি চ্যাপ্টা কাঠিতে পটাশিয়াম ক্লোরেট, অ্যান্টিমনি সালফাইড, গাম অ্যারাবিক এবং পানির মিশ্রণ দিতে শুরু করেন। যেগুলো শুকিয়ে গেলে শিরিষ কাগজ বা ঘষার উপযুক্ত কোনো পৃষ্ঠে ঘষলেই সহজে আগুন জ্বলে উঠতো।

১৮২৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে প্রথমে এ দিয়াশলাই বিক্রি শুরু হয়। বাজারে এটি ‘ফ্রিকশন ম্যাচ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এগুলো বিক্রি হতো টিনের কৌটায়। সাশ্রয়ী মূল্য হওয়ায় এটি ক্রেতামহলে দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। কিন্তু এটি আবিষ্কারের সূত্র ওয়াকার গোপন রেখেছিলেন। যে কারণে কখনও পেটেন্টও করেননি।
এদিকে দিয়াশলাইয়ের কিছু ত্রুটি ধরা পড়তে শুর করে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কখনো কখনো জ্বলন্ত রাসায়নিক মিশ্রণটি কাঠি থেকে পড়ে গিয়ে কাপড় বা মেঝেতে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে।
এ সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় ১৮২৯ সালে। লন্ডনের স্যামুয়েল জোন্স ‘লুসিফার’ নামে একটি দিয়াশলাই বাজারে আনেন। ওয়াকারের ফ্রিকশন লাইটস-এর হুবহু অনুকরণ ছিল। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য উদ্ভাবকেরা এ প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে শুরু করেন। টিনের কৌটার বদলে কাগজের মোড়কে ব্রিক্রি শুরু হয়। বদলে যেতে শুরু করে নকশা।
Advertisement

১৮৪৪ সালে সুইডিশ একটি সংস্করণ আধুনিক দিয়াশলাই বাক্সের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। মনে করা হয়, এটিই ছিল প্রথম পেটেন্ট করা ডিজাইনগুলোর একটি। ধীরে ধীরে এ দিয়াশলাই হয়ে ওঠে শিল্পক্ষেত্র ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বর্তমান সময়ের প্রযুক্তি নির্ভর যুগেও আলো ছড়াচ্ছে প্রতিটি ঘরে ঘরে।



