(ভিডিও)পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি শহরে ইরানের হামলা, আহত ১৮০

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,রোববার   ২২ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৯ ১৪৩২ || ২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডিমোনা এবং পাশের আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর এটি অন্যতম বড় উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শনিবারের এই হামলাকে একই দিনে ইরানের নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে সংঘাতের চতুর্থ সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলার নতুন ধাপ শুরু হয়েছে।

 

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরাদে অন্তত ১১৬ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ডিমোনায় আরও ৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। একাধিক আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেকেই স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে ‘কঠিন সন্ধ্যা’ বলে উল্লেখ করে ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০০ শিশু রয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, শনিবারের হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল, তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়নি, যদিও সেগুলো ‘বিশেষ বা অচেনা’ ছিল না।

 

দমকল বিভাগ জানায়, ডিমোনা ও আরাদ উভয় জায়গায় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলেও সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়, ফলে শত শত কেজি ওজনের ওয়ারহেডসহ দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে জানান, ডিমোনায় তিনটি আলাদা স্থানে আঘাত হানার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। একটি তিনতলা ভবন ধসে পড়েছে এবং একাধিক স্থানে আগুন লেগেছে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ডিমোনার শিমোন পেরেস নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে কোনো ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি এবং সেখানে অস্বাভাবিক বিকিরণের মাত্রাও শনাক্ত হয়নি।

আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে ‘সর্বোচ্চ সামরিক সংযম’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ডিমোনা ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের সহায়তায় গোপনে নির্মিত গবেষণা কেন্দ্র চালুর পর থেকেই ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৫৬৪ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং ১৩ জন গুরুতর আহত।

ইরান শনিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তবে সেখানে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর ঘটনা ঘটেনি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা নাতানজে হামলার দায় অস্বীকার করলেও এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি দেয়নি।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের মালেক আশতার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, তারা ইরানি শাসনকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে এগোচ্ছে, যাতে প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ভারসাম্য তৈরি হয়।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তছনছ দিমোনাছবি সৌজন্য