জেল কর্তৃপক্ষের মানবিকতায় ২৮ বছর পর কারামুক্ত হলেন রাহেলা বেগম (ভিডিও)

SHARE

রাহেলা বেগম। ছবি: ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.ম,বিশেষ প্রতিনিধি,রোববার   ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৪ ১৪৩২ :

১৯৯৮ সালে একটি হত্যা মামলায় রাহেলা বেগমকে যাবজ্জীবন সাজা দেন আদালত। এরপর গ্রেপ্তার হয়ে কারা জীবন শুরু হয় রাহেলার। ভিটামাটি কিংবা স্বামী-সন্তান, কিছুই নেই তার। জেলগেটে দু’একবার দেখতে গিয়েছেন বড় বোন সায়েলা। ঠিক এভাবেই জেলখানার চার দেয়ালেই কেটেছে জীবনের ২৮ বছর।

Advertisement

আপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি আপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain আথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছরের ১২ই জানুয়ারি তার সাজার মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু জরিমানার সাড়ে ৫ হাজার টাকা তখনও অপরিশোধিতই থেকে যায়। রাহেলাকে সে কথা জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। তার সঙ্গে আরও জানানো হয়, জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারলে তাকে আরও প্রায় ২ বছরের মত সাজা ভোগ করতে হবে। কিন্তু অসহায় রাহেলার পক্ষে তা কোনভাবেই পরিশোধ করা সম্ভব ছিলো না। পরিস্থিতি বিবেচনায় মানবিক হয় কারা কর্তৃপক্ষ। জরিমানার সাড়ে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন জেলসুপার। এরপরই তার সেই বোন জামাইয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয় পরিবারের কাছে।

রাহেলার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার দিঘা গ্রামে। বর্তমানে এ নারী বড় বোনের বাড়িতেই আছেন । দীর্ঘ কারাভোগের পর এখন আর স্মৃতি শক্তি ও দৃষ্টি শক্তি আগেরমত নেই। বয়স হয়েছে প্রায় ৬৪ বছর। নিজ বোন ছাড়া সবই তার অপরিচিত। রাহেলার কাছে জেল জীবন নিয়ে জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। ভাঙ্গা কন্ঠে বলেন, জেলের ভেতর বসে প্রতি মুহূর্তে বের হওয়ার ক্ষণ গুণতেন তিনি। এর বেশিকিছুই বলতে পারেন না রাহেলা।

তার বড় বোন সায়েলা জানান, বোনের জন্য আল্লাহর কাছে অনেক কেঁদেছেন তিনি। অন্তত ফিরে আসুক জীবিত। যদিও অনেক সময় জীবিত ফিরে পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন আপন বোনকে কাছে পেয়ে খুব ভালো লাগছে তার। যে মামলায় সাজা হয়েছে সে মামলা নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও এখন আর তা মনে করতে চান না তিনি।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

 

রাহেলার ফিরে আসার খবরে তাকে দেখতে আসছেন অনেকেই। জানান, ছোট বেলায় মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন রাহেলা। চলাফেরায় বেশ ভালোই ছিলেন। তবে ২৮ বছর আগের রাহেলাকে কোনভাবেই মিলাতে পারছেন না তারা।

নওগাঁ জেলা কারাগরের সুপারের দায়িত্বে আছেন রত্না রায়। রাহেলার মুক্তিতে সহযোগিতা করতে পেরে খুশি তিনিও। জানান, রাহেলা ছিলো সবচেয়ে প্রবীণ নারী কয়েদি। বিভিন্ন সময় তার খাওয়া-দাওয়া ও শরীরের খোঁজ নিতেন তারা। তবে যেহেতু তার যাবজ্জীবন সাজা শেষ হয়েছিল তাই কারা কর্তৃপক্ষও চেয়েছেন দ্রুতই তাকে পরিবারের কাছে তুলে দিতে। সেই মানবিকতা থেকেই জেল তহবিল থেকে তার জরিমানার সাড়ে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।