(ভিডিও)কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল, হাসনাতের বৈধ

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.ম,রাজনীতি প্রতিনিধি,শনিবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৩ ১৪৩২ :

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বহাল রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা -৪ আসনে হাসনাতের বিপক্ষে বিএনপি’র কোন প্রার্থী রইল না।

 

আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) একে অপরের বিরুদ্ধে দাখিল করা দুটি আপিল আবেদনের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত দেয় কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে বিকেলে আদেশ ঘোষণা করা হয়।

Advertisement

আপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি আপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain আথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

ইসি হাসনাতের দাখিল করা আপিল মঞ্জুর করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে। তবে মুন্সীর দাখিল করা আপিল খারিজ করে হাসনাতের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করে কমিশন।

 

আপিল আবেদনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী অভিযোগ করেন, হাসনাত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তাঁর আয়ের উৎস সঠিকভাবে উল্লেখ করেননি।

Advertisement

 

অন্যদিকে হাসনাত তাঁর আপিলে অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

 

তবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ঋণখেলাপির বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্তে হাইকোর্ট ৩ মাসের যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল তা স্থগিত রেখে এ–সংক্রান্ত রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে গত বুধবার নিষ্পত্তি করতে বলেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এ অবস্থায় মঞ্জুরুল আহসান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে পারবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

 

এর আগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের করা পৃথক আবেদনের (লিভ টু আপিল) শুনানি নিয়ে ৮ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আট সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মঞ্জুরুল আহসান আবেদন করেন, যা গত বুধবার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

Advertisement

আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন শুনানিতে ছিলেন। আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার শুনানিতে ছিলেন।

 

পরে আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন জানান, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকে মাম পাওয়ার লিমিটেড ঋণ নেয়। মাম পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান। প্রিমিয়ার ব্যাংককে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে। আইডিএলসির সঙ্গেও সেটেলমেন্ট হয়েছে; এর অংশ হিসেবে ডাউনপেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র এখনো বৈধ। এ মামলার সঙ্গে তাঁর (মঞ্জুরুল আহসান) মনোনয়নের সম্পর্ক নেই।

 

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন জানান, চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে তাঁরা (মঞ্জুরুল আহসান) আবেদন করেন। আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেননি, চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রেখে লিভ টু আপিল (প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স করা) নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। দেনা–পাওনা আছে, তিনি (মঞ্জুরুল আহসান) বাংলাদেশ ব্যাংকে অ্যাপ্রোচ করেছেন—এ রকম কিছু একটা কথা চলছে। আইডিএলসির ঋণ এখনো পুনঃ তফসিল হয়নি। সে হিসেবে সিআইবি প্রতিবেদনে তাঁর নাম থেকে যাবে। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 

প্রিমিয়ার ব্যাংকের আইনজীবী বিভূতি তরফদার জানান বলেন, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মঞ্জুরুল আহসানের করা আবেদনের শুনানি হয়। ৮ জানুয়ারি দেওয়া স্থগিতাদেশ চলমান রেখে চেম্বার আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ জানুয়ারি দেড় কোটি টাকা জমা দিয়ে ঋণ পুনঃ তফসিল করেছেন মঞ্জুরুল আহসান। এ হিসেবে তিনি এখন ব্যাংকটির ঋণখেলাপির মধ্যে পড়েন না।

Advertisement

আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, মাম পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান। এই কোম্পানির ঋণ ঘিরে ঋণখেলাপি হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা না করতে এবং নাম সিআইবিতে (ঋণ তথ্য ব্যুরো) না পাঠাতে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে কোম্পানি ও তিনি মামলা করেন। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়, যা গত বছরের ৫ নভেম্বর খারিজ হয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে বিবিধ আপিল করেন। শুনানি নিয়ে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম তিন মাসের জন্য ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রকাশ না করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে চেম্বার আদালত এই আদেশ স্থগিত করেন।

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল, হাসনাতের বৈধ