হাজতের ভেতরে পুলিশের সামনেই দু’পক্ষের অর্থ লেনদেন

SHARE

 

 

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম (টিভি),টঙ্গী পূর্ব থানা প্রতিনিধি, বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ||  কার্তিক ৩০ ১৪৩১ :

থানার হাজতেই প্রকাশ্যে লেনদেন হচ্ছে লাখ টাকা। এক ব্যক্তিকে টাকার বান্ডেল গুনে দিচ্ছেন আসামি। সামনে পাহারায় পুলিশের এক কনস্টেবল। এমনি একটি ভিডিও এসেছে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের হাতে।

ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে জানা যায়, ঘটনা ঘটেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের টঙ্গী পূর্ব থানায়। হাজতের ভেতর থাকা ব্যক্তি স্থানীয় ব্যবসায়ী টুটুল সরকার। যিনি ওইদিনই জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। আর যিনি টাকা নিচ্ছিলেন তিনি চাঁদাবাজি মামলার বাদি আরিফুর রহমান। তিনি মামলাটি করেছেন সেখানকার ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনের পক্ষে।

Advertisement

দু’পক্ষের সঙ্গেই কথা বলে জানা যায়, সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে টুটুলকে গ্রেপ্তারের পর হস্তান্তর করা হয়েছিল থানায়। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ছিল। তবে ওই রাতে ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনের পক্ষে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। যেখানে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগ করেন বাদি।

তবে টুটুলের দাবি পুলিশ ও বাদির যোগসাজশে জোরপূর্বক তাকে আটকে রেখে টাকা আদায় করা হয়েছে। আর ঘটনার দিন তার আইনজীবীকেও থানা হাজতে ঢোকানো হয়।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী টুটুল সরকার বলেন, আমরা মোট ১৬ লাখ টাকা দিয়েছি ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ও আরিফকে। পরে বলা আরও তিন লাখ টাকা দিতে হবে পুলিশকে।

ব্যবসায়ী টুটুল সরকারের আইনজীবী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, হাজতখানায় আমার মক্কেলের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে তারা টাকা নিয়েছে। এর আগে আমি কখনই ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ও আরিফকে দেখিনি।

Advertisement

তবে মহিউদ্দিনের দাবি, ব্যবস্যায়ীক পাওনা টাকা উদ্ধার করেছেন তিনি। পুলিশকে ব্যবহার করে টাকা উদ্ধারের বিষয়ে অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, ওনার সঙ্গে আমার ব্যবসায়ীক লেনদেন ছিল। ওনি নিজেই আমার টাকা পরিশোধ করেছেন। নিজের লোক দিয়েই ভিডিও ধারণ করেছেন।

এদিকে থানা হাজতের ভেতর আসামি ও বাদির টাকা লেনদেনের বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দাবি, কিছুই জানেন না তিনি। তবে দায়িত্বে গাফিলতিতে একজন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের লোক হিসেবে কাজ করতেন টুটুল। ঘাট ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিলো স্থানীয় মহিউদ্দিনের সঙ্গে। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ কাওসার আহমেদ বলেন, মহিউদ্দিন ও টুটুলের মধ্যে ইজারা নিয়ে দ্বন্দ রয়েছে।

Advertisement

ঘটনার বিষয়ে জানতে গাজীপুর উপপুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গেলে, ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি তিনি। তবে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।