চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অক্সিজেন লাগিয়ে রিকশা চালাচ্ছিলেন সেন্টু

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম (টিভি),রাজশাহী প্রতিনিধি,শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ : ঋণের কিস্তি পরিশোধ আর নিজের চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য নাকে অক্সিজেন নল লাগিয়ে রিকশা চালাচ্ছিলেন রাজশাহীর এক ব্যক্তি। দুই দিন এভাবে রিকশা চালানোর পর আর পারেননি। ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। তবে এরমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সেন্টুর মুখে অক্সিজেন নল লাগিয়ে রিকশা চালানোর ছবি। অনেকে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছেন।

Advertisement

এই রিকশাচালকের নাম মাইনুজ্জামান সেন্টু। বাড়ি রাজশাহী নগরীর কলাবাগান এলাকায়। সেন্টুর দুই মেয়ে আর এক ছেলে তার। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেও বিয়ে করে আলাদা থাকেন। এখন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার সেন্টুর। ২ হাজার টাকার ভাড়াবাসায় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বসবাস করেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। সমস্যা রয়েছে হৃদযন্ত্রেরও। গত রোববার (১৪ মে) তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি সেখানেই। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) তাকে দেখে এসেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ। আশ্বাস দিয়েছেন সব ধরনের সহযোগিতার।

Advertisement

সেন্টুর স্ত্রী চম্পা বেগম জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে রিকশা কেনেন সেন্টু। ২ বছর পর রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। এরপর আবারও ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আরেকটি রিকশা কেনেন। এরই মধ্যে শরীরে বাসা বাঁধে হার্নিয়া। এর অপারেশনের জন্য আবারও ঋণ করতে হয় ৫০ হাজার টাকা। এখন সব মিলিয়ে সপ্তাহে ১ হাজার ৩৫০ টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয় তাকে। ফুসফুসের সমস্যার কারণে সর্বশেষ দেড় মাসের মধ্যে তিনবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

এখন অক্সিজেন ছাড়া চলতে পারছেন না তার স্বামী। গত পাঁচ মাস ধরে দিনে তিনটি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগে। ওষুধও কিনতে হয়। ওষুধ-অক্সিজেনে খরচ রোজ ৬০০ টাকা। কিস্তি এবং নিজের চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য বসে থাকার সুযোগ নেই। তাই অক্সিজেন সিলিন্ডার রিকশায় তুলে মুখে নল লাগিয়ে রিকশা চালাতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু দুই দিন পর শরীর বেশি খারাপ হয়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বাড়িতে গিয়েও সব সময় অক্সিজেন লাগবে বলে চিকিৎসক একটা ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ মেশিন কিনে নিতে বলেন।

এই মেশিনটির দাম অন্তত ৫০ হাজার টাকা। সেন্টুর অক্সিজেন নল লাগিয়ে রিকশা চালানোর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে মেশিনটি কেনার জন্য ইতোমধ্যে একজন ৫৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ডিসি শামীম আহমেদ তাকে দেখতে যান। তিনিও এই মেশিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

Advertisement

তবে এখনও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত রিকশাচালক সেন্টু। তিনি বলেন, ‘আমি কথা বলতে পারি না। একটু কথা বললে হাঁপিয়ে উঠি। ডাক্তার বলেছে যে, ফুসফুসেও বড় সমস্যা। ভারি কাজ করা যাবে না। একটা সহজ কাজ দরকার, যেটা বসে থেকেও করতে পারব। তাহলে আমার সংসারটা চলবে। তা না হলে ভবিষ্যতে কী হবে সেটা আমি জানি না।’

রামেক হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক হাসান তারিক বলেন, সেন্টুর সিওপিডি ও যক্ষ্মা আছে। তাই তাঁর ফুসফুস দুর্বল হয়ে পড়েছে। হার্টেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। হার্টে যে পরিমাণ অক্সিজেন যাওয়া দরকার তা যাচ্ছে না। তাই সেন্টু স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে পারছেন না। ‘কনসেনট্রেটর’ মেশিনটি কিনে নিলে তিনি স্বাভাবিকভাবে বাতাস গ্রহণ করতে পারবেন। তখন আর তাঁর অক্সিজেনের খরচ লাগবে না।

 

রাজশাহীর ডিসি শামীম আহমেদ বলেন, ‘সেন্টুর চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় জেলা প্রশাসন বহন করবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিনটি সবচেয়ে আগে প্রয়োজন। তাই এই মেশিনটা তাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। হাসপাতাল থেকে যাওয়ার পর সেন্টুকে অফিসে ডাকা হয়েছে। তার সমস্যা শুনে সমাধান করা হবে।’