(ভিডিও) সিনহা হত্যা মামলা আপিল বিভাগে, শুনানি ১ ডিসেম্বর

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আইন আদালত প্রতিনিধি, সোমবার,০২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮:

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলা বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের ধাপ পার হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন দণ্ডিত আসামিরা। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত। গত ১৮ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত শুনানির এ দিন নির্ধারণ করেন।

  • Advertisement

    • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

 

এর আগে ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট টেকনাফ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। একইসঙ্গে অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টের ৩৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর।

 

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সিনহার বুকে আঘাত করেন এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্য ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

রায়ে আরও বলা হয়, তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারি পিস্তল দিয়ে নিরস্ত্র সিনহার শরীরের ঊর্ধ্বাংশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরপর চারটি গুলি করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ওই গুলির আঘাতেই সিনহার মৃত্যু হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রদীপের পরিকল্পনা ও ঘটনাস্থলে ভূমিকা এবং লিয়াকতের গুলিবর্ষণের বিষয়টি সাক্ষ্য-প্রমাণে সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

 

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুলাই সিনহা মো. রাশেদ খান তার ‘জাস্ট গো’ ইউটিউব চ্যানেলের জন্য পাহাড়, জঙ্গল ও সমুদ্রসৈকত এলাকার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র ধারণ করতে কয়েকজন সহযোগীসহ কক্সবাজারে আসেন। পরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও রামুতে কাজ করার সময় স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে প্রদীপ ও তার বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়, গুম ও ক্রসফায়ারসহ বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জানতে পারেন। ভুক্তভোগীদের বক্তব্যও ধারণ করেন তিনি।

 

রায়ে বলা হয়, বিষয়টি সোর্সের মাধ্যমে জানতে পেরে সিনহাকে ওই কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে এবং এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দেন ওসি প্রদীপ। এরপরও সিনহা কাজ চালিয়ে গেলে প্রদীপ, লিয়াকতসহ কয়েকজন তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন বলে সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে। সিনহার গতিবিধির ওপর নজর রাখতে কয়েকজনকে সোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, সিনহা ও তার সহযোগী পাহাড় থেকে ফেরার সময় তাঁদের ডাকাত আখ্যা দিয়ে গণপিটুনিতে হত্যার উদ্দেশ্যে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টিও রায়ে তুলে ধরা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে এসব পর্যবেক্ষণ দেন।

 

ছয় আসামির যাবজ্জীবন বহাল:
হাইকোর্টে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন— পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব এবং মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিন।

 

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সাধারণ অভিপ্রায়ের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধের ধরন বিবেচনায় বিচারিক আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের মতে, ওই সিদ্ধান্ত যথাযথ ও যুক্তিযুক্ত; তাই সাজা বহাল রাখার রায়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

বিচারিক আদালত থেকে আপিল বিভাগে:
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস হত্যা মামলা করেন।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায় দেন। ওই রায়ে প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাত আসামি খালাস পান।

 

পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। দণ্ডিত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করেন। একইসঙ্গে খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছয় আসামির সাজা বাড়ানোর আবেদন করেন মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট এসব আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।

এখন মামলাটির পরবর্তী ধাপ আপিল বিভাগে শুনানি। আগামী ১ ডিসেম্বর শুনানি শুরু হলে দণ্ডিত আসামিদের আপিলের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাদী ও আসামিপক্ষ।

  • Advertisement

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুস রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে কক্সবাজারে নেই। মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান