পর্নোগ্রাফির মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজন কারাগারে

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর  প্রতিনিধি, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,১১ কার্তিক ১৪৩৩১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে ধর্ষণ এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

  • Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাবুর রহমান এ আদেশ দেন।

 

এর আগে আদালতে মামলার চার আসামি জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে তাদের মধ্যে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ এবং অপর দুই আসামিকে মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে।

কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের চক নারায়ণ গ্রামের আলমঙ্গীর আকন্দের ছেলে মো. সালেহীন আকন্দ (২৪) এবং একই ইউনিয়নের বৈষ্ণবদা গ্রামের মফিজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে ও রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম (৪০)।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার। তিনি জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার চার আসামি মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক সালেহীন আকন্দ ও রবিউল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর দুই আসামি প্রদীপ কুমার ও রবিউল আকন্দকে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এর আগে তিনি দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলা দায়েরের পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম আসামি সালেহীন আকন্দ ওই নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। দ্বিতীয় আসামি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামও এসব ছবি ও ভিডিও প্রচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ছবি সামাজিক মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেন এই দুই আসামি। এতে সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

 

পরে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সাদুল্লাপুর থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই স্কুল শিক্ষিকা। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষিকা বলেন, “আমি একজন স্কুলশিক্ষিকা। আমার সম্মানহানি করে আমাকে সমাজের কাছে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি অনেক মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছি। আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোয় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছি।  আমি কারও কাছে প্রতিশোধ চাই না, শুধু ন্যায়বিচার ও নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই।”

  • Advertisement

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার বলেন, ‍নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানির অভিযোগ গুরুতর। মামলার অভিযোগ ও উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে আদালত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবেন এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন বলে তারা আশা করছেন।

মো. রবিউল ইসলাম এবং মো. সালেহীন আকন্দ