ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,২ কার্তিক ১৪৩৩০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ :
২৬ সেপ্টেম্বর, ইসরায়েলের তথাকথিত জায়নবাদী বিরোধী শিবিরের পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় নেতা একটি ‘অ-আক্রমণ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ছিল এই চুক্তির লক্ষ্য।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের তেল আবিবের বাসভবনে সমবেত হয়েছিলেন তার সহযোগী নেতা—‘বেয়াখাদ’-এর প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত; নতুন ‘ইয়াশার’ দলের নেতা ও সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট; ‘ডেমোক্র্যাটস’ দলের নেতা ইয়ার গোলান; এবং ‘ইসরায়েল বেইতেইনু’ দলের প্রধান আভিগদোর লিবারম্যান।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকের পর প্রকাশিত নীতিগত বিবৃতিতে নেতারা বলেছেন, “আমাদের মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজে নিবেদিত একটি জায়নবাদী ও রাষ্ট্রনায়কোচিত সরকার গঠনই আমাদের অভিন্ন মূল লক্ষ্য।”
তবে এই সমঝোতা কতদিন টিকে থাকবে তা এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ইতিমধ্যেই লিবারম্যান অভিযোগ করেছেন যে, আলোচনার সামনের সারিতে থাকা আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তারা নীতিগত ও কর্মপদ্ধতির দিক থেকে কতটা অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে গঠিত জোটের নেতৃত্বে কে থাকবেন—সে বিষয়গুলোও এখনো অনিশ্চিত।
গোলান বাদে বাকি সবাই ইসরায়েলের চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় মূলত ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
তাদের কেউই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন; কেবল ডেমোক্র্যাটরা এটিকে একটি সুদূর ও অস্পষ্ট লক্ষ্য হিসেবে স্বীকার করে। গোলানসহ কেউই এটি মেনে নেন না যে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ একটি গণহত্যায় রূপ নিয়েছে অথবা সেখানে ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে। এছাড়া লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, কাতার ও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও তারা কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেননি; বরং তাদের সমালোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল—এই পদক্ষেপগুলোর কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষক এবং কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো অ্যারন ব্রেগম্যান বলেন, “বেনেট, লিবারম্যান বা আইজেনকোটের মতো বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী শক্তিগুলো ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে। তারা মূল ও মৌলিক সমস্যাটির দিকে তাকাতেই ইচ্ছুক নন—যে সমস্যাটি সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে; আর তা হলো ফিলিস্তিনি ইস্যু এবং স্বাধীনতার জন্য ফিলিস্তিনিদের আকাঙ্ক্ষা।”
ব্রেগম্যান তাদের নেতানিয়াহুর সাথে তুলনা করেন, তবে পার্থক্য হলো—তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং তাদের সাথে ইতামার বেন-গভির (জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী) বা বেজালেল স্মোত্রিখের (অর্থমন্ত্রী) মতো কট্টর ডানপন্থী ব্যক্তিদের সমর্থনও নেই। তবে সামগ্রিকভাবে ইসরায়েল একটি ডানপন্থী রাষ্ট্র।
-
Advertisement

ইউনিভার্সিটি অব এসেক্স-এর ইসরায়েলি রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোই জুর বলেছেন , নিরাপত্তা ও সংঘাতের বিষয়ে গোলান এবং লিবারম্যানের মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, ‘এই দুজনকে ছাড়া কোনো বিজয়ী জোট গঠন করা সম্ভব হবে না।’ তাদের মধ্যে সংঘাত হতে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার শামিল; কারণ তারা উভয়েই নেতানিয়াহুর বিরোধী, ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে এবং অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোর বিরোধী।



