(ভিডিও)আদালতে জবানবন্দি • সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুসের দুই লাখ টাকা নেন দুই কর্মচারী

SHARE

https://www.facebook.com/share/v/1BZ9oN3YrS/

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় প্রতিনিধি , শুক্রবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১০ আশ্বিন ১৪৩৩১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ :

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ঘুসের দুই লাখ টাকাসহ গ্রেফতার দুই কর্মচারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে দলিল নিবন্ধনের সময় ঘুস নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেন হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ।

  • Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় ঘুসের দুই লাখ টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি ঘুসের দুই লাখ টাকা নেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হচ্ছিল।

উমেদার রূপণ দাশ জানান, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। তবে দলিল নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা ঘুস নেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন দেওয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় তার বাসায় গিয়ে ওই টাকা নেওয়ার কথা ছিল। দলিলে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, এক আইনজীবী তার মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য আদালত ভবনে অবস্থিত পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয়। পরে ওই আইনজীবী দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পর মঙ্গলবার বিকেলে ওই আইনজীবী ঘুসের টাকা দিতে কার্যালয়ে গেলে দুদকের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় দুই লাখ টাকা ঘুসসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়।

বুধবার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে ফারুক ইসলাম ও রূপণ দাশ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাব-রেজিস্ট্রারসহ তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, তিনজনের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রার ছাড়া বাকি দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে দলিল নিবন্ধনের সময় ঘুস নেওয়ার কথা বলেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসু বলেন, ঘুস নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা হওয়ার কথা নয়।

  • Advertisement

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আল আমিন বলেন, ঘুসের দুই লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার দুজন আদালতে ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘুস লেনদেনের পুরো চক্র শনাক্তে দুদকের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে দুই লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার সময় দুদকের হাতে ধরা দুই কর্মচারী