(ভিডিও)ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R&AW)-এর গোয়েদা গ্রেফতার

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি ,বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||  আশ্বিন ৯ ১৪৩৩ || ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি :

ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R&AW)-এর প্রধানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সফর করেছে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন একটি চার সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় আসেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলামের সাথে বৈঠক করেন। 
  • Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই সফর সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, এটি একটি স্বাভাবিক ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল এবং এতে গোপনীয়তার কিছু ছিল না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে ‘র’ সদস্যদের বাংলাদেশে পাঠানো বা অনানুষ্ঠানিক তৎপরতা নিয়ে নানা ধরনের গুজব বা জল্পনা তৈরি হয়েছে। 
গোয়েন্দা প্রধানের এই প্রকাশ্য সফর এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল উদ্দেশ্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সমন্বয়

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা পর্যায়ের যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখাই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করেছে যে, আগের সরকারের আমলের মতো কোনো বিদেশি সংস্থাকে এখানে অবাধে কাজ করতে দেওয়া হবে না, তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় থাকবে। 

২. আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪,০৯৬ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং পুশ-ইন বা জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। 

৩. বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ওপর নজরদারি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় (সেভেন সিস্টার্স) রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড যেন কোনো ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা ভারতের একটি অন্যতম প্রধান ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। এই বিষয়ে বাংলাদেশের নতুন কাউন্টার-টেররিজম বা নিরাপত্তা কৌশলের রূপরেখা জানাও এই আলোচনার অংশ ছিল। 

সাম্প্রতিক গুজব ও বাস্তবচিত্র

একই সময়ে (সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশের সাতক্ষীরা বা সীমান্ত এলাকায় রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে সন্দেহজনক আচরণের জন্য পুলিশ আটক করার পর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে “র এজেন্ট” বলে দাবি করে জল্পনা ছড়ায়। তবে এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ‘র’ সদস্য পাঠানোর ঘটনা নয়, বরং পুলিশি তদন্তাধীন একটি বিচ্ছিন্ন বিষয়। 
  • Advertisement

সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দেশই প্রতিবেশী দেশে কূটনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা যোগাযোগ বজায় রাখে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত বাংলাদেশে কোনো গোপন উদ্দেশ্য বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য নয়, বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা ও নতুন প্রশাসনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতেই প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে যোগাযোগ করছে।