ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিনোদন প্রতিনিধি, শনিবার,১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২৭ ভাদ্র ১৪৩৩২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:
৩১ বছরের দাম্পত্যে অনেক কিছুই বদলায়—অভ্যাস বদলায়, সংসারের ব্যস্ততা বাড়ে, সন্তানরা বড় হয়। কিন্তু, কিছু মানুষের প্রতি মুগ্ধতা থেকে যায় আগের মতোই। মৌসুমীর ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই মনে করেন ওমর সানী। স্ত্রীর যত্ন নেওয়ার স্বভাব, ধৈর্য আর কখনো কখনো জেদ—এসবই এখনো তাকে টানে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
সম্প্রতি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ও মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসা নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ওমর সানী। সেখানে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর নানা গুণের পাশাপাশি তাদের সংসারের কিছু মজার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।
মৌসুমীর কোন বিষয়টি এখনো তাকে বেশি আকর্ষণ করে, জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, “মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।”
স্ত্রীর জীবনে সন্তানদের গুরুত্বের কথাও উঠে আসে সানীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, “একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।”

‘ফারদীন-ফাইজার আম্মু, তোমাকে ভালোবাসি’-মৌসুমীর প্রতি আবেগঘন বার্তায় ওমর সানী
সংসারের এমন নানা ছোট ছোট মুহূর্তও যে তাদের সম্পর্ককে আলাদা করে, সেটিও বোঝা যায় ওমর সানীর কথায়। খাবার টেবিলের একটি মজার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই–চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।”
দীর্ঘ দাম্পত্যে তাদের সম্পর্ক নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কখনো এসেছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন, কখনো নানা ধরনের লেখালেখি। এসব নিয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া কেমন হয় তা জানিয়ে ওমর সানী বলেন, “আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তাই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।”
এ প্রসঙ্গে মৌসুমীর একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন সানী। তিনি বলেন, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।”
তবে, এত আলোচনা-সমালোচনার পরও স্ত্রীর প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশে কোনো রাখঢাক নেই ওমর সানীর। তিনি বলেন, “এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।”
সানীর মতে, “দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগের বিকল্প নেই। আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’
মৌসুমীর বকাঝকা ও খেয়াল রাখার মধ্যেও যে ভালোবাসা খুঁজে পান, সেটিও জানান ওমর সানী। তিনি বলেন, “মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কীভাবে লাগবে, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।”

১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা।
মৌসুমি-ওমর সানীর সম্পর্কের শুরু যেভাবে
আজকের এই দীর্ঘ পথের শুরুটা অবশ্য খুব সহজ ছিল না। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মৌসুমী ও ওমর সানীর। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই দুজনের প্রথম কথা হয়।
অন্য সিনেমার ব্যস্ততার কারণে সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি মৌসুমী। ফলে, মন খারাপ নিয়েই সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী।১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ সিনেমাতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ের সময় দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। কিন্তু, সেই দূরত্বই ধীরে ধীরে বদলে যায় ভালো লাগায়।
মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ ওমর সানীকে মুগ্ধ করে। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা।
-
Advertisement

বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। এরপর কেটে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ যাত্রায় অভিমান, নানা আলোচনা ও গুঞ্জন এলেও পাশাপাশি থাকার গল্পটা থামেনি। আর সানীর কথায়, সেই পথচলায় বড় কোনো চমকের চেয়ে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, ত্যাগ, বোঝাপড়া ও ভালোবাসার ছোট ছোট মুহূর্তই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় শক্তি।

মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ ওমর সানীকে মুগ্ধ করে


