ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,ঢাকার সাভারের আমিনবাজার প্রতিনিধি, সোমবার,০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২৩ ভাদ্র ১৪৩৩২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদের মধ্যে র্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকার লঞ্চঘাট থেকে চারজন এবং র্যাব-৪ আমিনবাজার এলাকা থেকে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি ও র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব-১০ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান। তারা দায়ের হওয়া মামলার এজহারনামীয় আসামি।
র্যাব-৪ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা হলেন- নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও মো. ওয়াসিম (৪০)।
নিহত আলতাফ হোসেন এসবির ঢাকার মালিবাগ জোনে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে তিনি। আলতাফ হোসেন পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার রাতে একটি অটো রাখাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন তার প্রতিবাদ করেন। এসময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি জানান, আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে এসআই আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। তারা আরো ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাব অধিনায়ক জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যার সঙ্গ জড়িত অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। রবিবার রাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে র্যাব| গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের চালক এবং তার কয়েকজন সহযোগী কর্তৃক একজন অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদ করায় এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
-
Advertisement

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার ভোরে আমিন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম।



