ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,নেপাল প্রতিনিধি, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬,১২ ভাদ্র ১৪৩৩১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:
পাঁচ মাস আগে হিন্দুকুশ হিমালয়ের (এইচকেএইচ) জনগণের পক্ষে কর্মরত একটি আন্তঃসরকারি জ্ঞান ও শিক্ষা কেন্দ্রের দুটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হিমবাহগুলো দ্রুত থেকে দ্রুততর হারে গলছে এবং সহস্রাব্দের শুরু থেকে বরফ ক্ষয়ের হার দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি), ওই দুটি প্রতিবেদনে বলেছে যে ১৯৭৫ সাল থেকে হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমে গেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে ‘এশিয়ার পানির স্তম্ভ’ হিসেবে পরিচিত এই হিমবাহের গলিত পানির উপর নির্ভরশীল নিম্নধারার প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য ভবিষ্যতের এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বুধবার নেপালে আকস্মিক বন্যায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই আকস্মিক বন্যার সঠিক কারণ কী ছিল, তা বিজ্ঞানী ও গবেষকরা তদন্ত করছেন। তবে, এদের মধ্যে অনেকেই একাধিক কারণের সংমিশ্রণের দিকে ঝুঁকে আছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়টি হলো চার হাজার মিটার বা তার বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টি হচ্ছে।
ভারত সরকারের দেরাদুনভিত্তিক ওয়াদিয়া হিমালয়ান ভূতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের একজন বিজ্ঞানী বৃহস্পতিবার এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণেই হয়তো সেইসব উচ্চতায় এখন বৃষ্টি হচ্ছে যেখানে একসময় তুষারপাত হতো এবং হিমবাহগুলো খুব দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।
এর পাশাপাশি চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত আইসিআইএমওডি-এর দুটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, “১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে, হিমালয়-কারাকোরাম হিমবাহগুলো তাদের মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং তাদের আনুমানিক বরফ মজুদের ৯ শতাংশ হারিয়েছে।”
আইসিআইএমওডি-এর দুটি প্রতিবেদনের মধ্যে একটি, ‘এইচকেএইচ গ্ল্যাসিয়ার আউটলুক ২০২৬’, যা ৩৮টি পর্যবেক্ষণাধীন হিমবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। তাতে দেখা গেছে, ২০০০ সাল থেকে হিমবাহের ক্ষয় দ্বিগুণ হয়েছে। এটি একটি জোরালো ইঙ্গিত যে ‘হিমালয়ের ক্রায়োস্ফিয়ারের কিছু অংশ অপরিবর্তনীয় পশ্চাদপসরণের দিকে এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।’
তবে, এতে একটি তথ্যের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ওই ৩৮টি পর্যবেক্ষণাধীন হিমবাহের মধ্যে মাত্র সাতটি ওয়ার্ল্ড গ্লেসিয়ার মনিটরিং সার্ভিস -এর বৈশ্বিক মানদণ্ডের পর্যবেক্ষণ মান পূরণ করেছে। এতে বলা হয়েছে, কারাকোরাম, সিকিম, জান্সকার এবং ভুটানসহ বিশাল হিমবাহ সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো মূলত পর্যবেক্ষণের বাইরেই রয়ে গেছে।
-
Advertisement

আইসিআইএমওডি-এর গবেষকরা এখন তদন্ত করছেন যে, উচ্চভূমি থেকে সৃষ্ট কোনো বরফ-পাথরের ধস এই বন্যার সূত্রপাত ঘটিয়েছে কি না। বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ ভোতে কোশি নদীর উপনদী লেন্দে খোলায় প্রবেশ করে থাকতে পারে এবং এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক স্রোত পানি, পলি ও বড় বড় পাথরকে ভাটির দিকে বয়ে নিয়ে গেছে।



