ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি,বৃহস্পতিবার,২৩ জুলাই ২০২৬,৭ শ্রাবণ ১৪৩৩০৮ সফর ১৪৪৮ :
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন—এমন আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে অথবা স্বাস্থ্যগত বা যেকোনো কারণে চাইলে তাঁর সে অপশন আছে; কিন্তু আমরা তো জানি না।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে ‘কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা’ নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না, এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কোনো পদক্ষেপ নাই এখানে।’
রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তো আর কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখছেন যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ইত্যাদি। আমিও শুনছি।’
রাষ্ট্রপতি কি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন, এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা ওনাকে জিজ্ঞেস করতে হবে।’
এক সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, গণমাধ্যমে একটা খবর এসেছে তিনি (রাষ্ট্রপতি) লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তখন ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি ফোনালাপ করেছিলেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, উনি চিকিৎসার্থে কিছু দিন আগে বিদেশে গিয়েছিলেন। তো চিকিৎসা তো নিতেই পারে অসুস্থ হলে।’
লন্ডনে বসে তিনি (রাষ্ট্রপতি) ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার সাথে ফোনালাপ করেছিলেন, আরেক সাংবাদিকের এ প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আমি জানি না। আমরা শুনি নাই।’
রাষ্ট্রপতি কি শারীরিক অবস্থার কারণে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘না, এটা সরকারকে জানানোর কথা না। যদি মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত বা যেকোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, সেই অপশন তো ওনার আছেই। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয় নাই। আমিও এগুলো পত্রিকায় শুনছি (দেখছি)। আর তিনি যদি পদত্যাগ করতে চান সাংবিধানিকভাবে, সেটা মাননীয় স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র দিতে হয়। এটুকু জানি। এর বাইরে কিছু জানি না।’
পরে বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।’
যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ আসে। সেখানে এক সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোন কল করেছিলেন, এ রকম খবর প্রকাশ হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। যেহেতু এটি বিদেশে ঘটেছে, এটার সঙ্গে কারা জড়িত, এটার কোনো তদন্ত বা এটার কোনো উদ্যোগ কি আপনারা নিচ্ছেন?
জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা কোনো ডেফিনিট (সুনির্দিষ্ট) খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি। যদি সেটা সত্যি হয়ে থাকে, তবে সেটা তদন্ত করবে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।
এর মধ্যে গতকাল বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।



