ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,খুলনার সোনাডাঙ্গায় প্রতিনিধি, বৃহস্পতিবার,১৮ জুন ২০২৬,৪ আষাঢ় ১৪৩৩০২ মুহাররম ১৪৪৮ :
খুলনায় গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের মামলায় পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
Advertisement

-
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৩১৫২৫১১৪৫
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগীর মা মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং দুপুরে খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারুক ইকবাল গ্রেপ্তার পুলিশ দম্পত্তিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- সঞ্জয় কুমার সাহা এবং তার স্ত্রী পরি রানী সাহা। তারা দুজনই নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নরসিংদী থেকে খুলনায় গিয়ে ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার মেয়ে ওই বাসায় কাজ করছিল। মেয়ের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের কথা তিনি জানতেন না। মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি।
নির্যাতনের শিকার কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন ওই কিশোরী। বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বুধবার দুপুরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার অজুহাতে গৃহকর্মী মিলনের ওপর চড়াও হন এএসআই সঞ্জয়ের স্ত্রী পপি রানী সাহা। তিনি মিলনকে মারধর করার পাশাপাশি তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেন। নির্যাতনের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার বিকেলেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে আসে এবং এএসআই সঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, গতকাল বিকেলে খুলনা সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের ভবনের ভেতরে একজনকে নির্যাতন করতে দেখেন। দূর থেকে পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় রেকর্ড করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে ওই গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গরম কড়াই দিয়ে ওই তরুণীর শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও বলেন, বুধবার থেকে এই পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। অবশেষে আজ দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।
Advertisement

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা দুজনই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’



